স্বৈরাচারবিরোধী জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি প্রায় সব রাজনৈতিক দলের পূর্ণ সমর্থন থাকলেও এখন তাদের বেশিরভাগই সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছে। ঐকমত্য কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ায় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের নামে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তিনি বলেন, “গণভোট নির্বাচনের আগে করার সুযোগ এখন আর নেই।”
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করতে, নইলে জনগণের আস্থা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে এবং সংকট নিরসনের একমাত্র উপায় হলো দ্রুত নির্বাচন আয়োজন।
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, “ঐকমত্য কমিশনের যেসব বিষয়ে দলগুলো একমত হয়েছে, তা গণভোটে যেতে হবে; অন্যথায় জনগণের রায় উপেক্ষা করা হবে।”
অন্যদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “আমরা সরকারকে সমর্থন দিয়েছি নির্দিষ্ট বিষয়ে; তবে নির্বাহী আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই।”
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর মনে করেন, জুলাই সনদের নামে নতুন বিভাজন তৈরি হচ্ছে, যা সময়মতো নির্বাচন আয়োজনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই বিপ্লবের পর জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক ঐক্য এখন ভাঙনের মুখে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে গণভোটের সময়সূচি নিয়ে মতপার্থক্য তীব্র হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে— বিএনপির নেতারা “না”, আর জামায়াত-এনসিপি নেতারা “হ্যাঁ” প্রচারণায় সক্রিয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে প্রশ্নের সঠিক সমাধান না হলে নির্বাচনের অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।”
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, গণভোট ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, তবে নির্বাচন ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই অনুষ্ঠিত হবে।
সব মিলিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে বিরোধে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে, আর জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ।



















