গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে একই পরিবারের ৫ জনকে হত্যার সেই নৃশংস ঘটনার পেছনের কারণ ও ধরণ উন্মোচিত হয়েছে। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া তাঁর স্ত্রী, তিন শিশু সন্তান এবং শ্যালককে গলা কেটে হত্যার পর পাঁচটি লাশের ওপর কম্পিউটারে টাইপ করা পাঁচটি অভিন্ন ‘অভিযোগপত্র’ রেখে পালিয়ে গেছেন। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা ওই অভিযোগপত্রে ফোরকান তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়া এবং তাঁর উপার্জিত ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
প্রতিহিংসা ও নৃশংসতার বর্ণনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, লাশের ওপর পাওয়া ওই কাগজে উল্লেখ রয়েছে যে, ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম স্বামীর অর্থ দিয়ে বাবার বাড়িতে জমি কিনেছিলেন এবং জনৈক রাজু আহমেদের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এমনকি ৫ মে শারমিন ও তাঁর কথিত প্রেমিক মিলে ফোরকানকে মারধর করেছিলেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই শুক্রবার রাতে তিনি এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটান। নিহতদের মধ্যে ১৬, ৮ এবং মাত্র ২ বছরের তিন কন্যা শিশু এবং তাঁর ২২ বছর বয়সী শ্যালক রসুল রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান মিয়া ফোনকলে নিজের অপরাধ স্বীকার করে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
জাতীয় প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তার উদ্বেগ আজকের এই শনিবারটি যেন সারা দেশের জন্য এক বিভীষিকাময় দিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিহত শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ দেশে আসা এবং সাভারে আনসার সদস্যদের ওপর হকারদের হামলা—সব মিলিয়ে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসনের ‘নতুন সংগ্রাম’ শুরু হয়েছে এবং পাকিস্তানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ঢাকা সফরে এসে নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করছেন, তখন এই ধরণের পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়জনিত অপরাধগুলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এক বিরাট মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।



















