ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে ইরান একটি অর্থবহ চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দেশটি সরাসরি মার্কিন হামলার মুখে পড়তে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে এই চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছেন, “হয় চুক্তি হবে, না হয় তাদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হবে।”
মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি ও ট্রাম্পের নির্দেশ ট্রাম্পের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা, অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই শনিবারের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে। যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প হামলার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দেননি, তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা পরমাণু কেন্দ্র ও ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইটগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখছেন।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি ও তেহরানের অবস্থান মার্কিন হুমকির মুখে ইরানও পাল্টা শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তেহরান থেকে জানানো হয়েছে, যদি তাদের ভূখণ্ডে কোনো হামলা চালানো হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালানো হবে। আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান মাথাব্যথা। ট্রাম্প বারবার হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, তেহরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ একে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ বলে অভিহিত করেছেন। কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই ১০ দিন পার হওয়ার আগে যদি আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান না আসে, তবে মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের কবলে পড়তে পারে।



















