রাজধানীতে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) গত পাঁচ বছরে মশা নিধনে প্রায় ১৮৮ কোটি টাকা ব্যয় করলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। খিলগাঁও, ধানমন্ডি, লালবাগ ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, সন্ধ্যার পর বারান্দায় দাঁড়ানো বা দোকানে বেচাবিক্রি করাও এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে।
মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাব সিটি করপোরেশনের সূচি অনুযায়ী, রমজান মাসে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মীর মশা নিধনের কাজ করার কথা থাকলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোনো মশক নিধন কর্মীর দেখা মেলেনি। কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমানে সচিবালয় এলাকায় বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে অন্যান্য ওয়ার্ডে কার্যক্রম কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় এবং রাজনৈতিক প্রভাবে কিছু কর্মীর দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে তদারকি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় মশার লার্ভা ধ্বংসে ভারত থেকে আমদানিকৃত ‘টেমিফস’ এবং উড়ান্ত মশা মারতে চীন থেকে আনা ‘মেলাথিউন’ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে পরীক্ষাগারে এসব ওষুধের মান সঠিক পাওয়া গেলেও বাস্তবে মশা মরছে না। ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান নিজেও তাঁর এলাকায় মশার উপদ্রব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওষুধের মান এবং কর্মীদের উপস্থিতির সত্যতা যাচাইয়ে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ব্যয় বাড়ছে, প্রশ্নও বাড়ছে ডিএসসিসি সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে মশা নিধনে ৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অর্থ ব্যয়ের পরও মশা কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কেবল ধোঁয়া ছড়ানো বা ‘ফগিং’ দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নির্মাণাধীন ভবন, খোলা ড্রেন এবং জমে থাকা পানির উৎসগুলো ধ্বংস করতে বছরব্যাপী সমন্বিত পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।



















