সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ, ২০২৬) সংঘটিত এই হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও টাইমস নাও এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও কৌশলগত প্রভাবগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- বিমানের ক্ষয়ক্ষতি: হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ‘কেসি-১৩৫’ (KC-135) রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ১৩ মার্চের হামলায় আরও পাঁচটি একই ধরনের উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা বর্তমানে মেরামতধীন।
- আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যর্থতা: ঘাঁটিতে অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই অনুপ্রবেশকে পেন্টাগন গুরুত্বের সাথে দেখছে।
- কেসি-১৩৫ এর গুরুত্ব: এই উড়োজাহাজগুলো মূলত ‘স্ট্র্যাটোট্যাংকার’ হিসেবে পরিচিত। মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানে জ্বালানি সরবরাহ করাই এর কাজ। এই বিমানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর দীর্ঘসময় আকাশে থাকার সক্ষমতা বা ‘অপারেশনাল রেঞ্জ’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
- ক্রু নিহতর ঘটনা: উল্লেখ্য যে, গত ১৩ মার্চ ইরাকের আকাশসীমায় একটি কেসি-১৩৫ বিধ্বস্ত হয়ে ৬ জন ক্রু নিহত হয়েছিলেন। যদিও সেন্টকম যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলেছিল, তবে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’ নামক একটি গোষ্ঠী তা ভূপাতিত করার দাবি করে আসছে।
- আর্থিক ক্ষতি: প্রতিটি কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজের উৎপাদন খরচ প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার (১৯৯৮ সালের হিসাব অনুযায়ী)। বর্তমান বাজারমূল্যে এর আধুনিকায়ন ও মেরামতের খরচ আরও কয়েকগুণ বেশি।
এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রিফুয়েলিং বিমানগুলোকে টার্গেট করার অর্থ হলো মার্কিন বিমানবাহিনীর ‘লজিস্টিক চেইন’ ভেঙে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।



















