বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে নারী শিক্ষার প্রসারে মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিন্যামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে আয়োজিত ‘নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবা’ বিষয়ক এক চা-চক্রে তিনি এই ঘোষণা দেন। লেডিজ অব গুলশান, বনানী, বারিধারা, ডিওএইচএস ও নিকেতন সোসাইটির নারী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণে নারীর সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জুবাইদা রহমান বলেন, “দেশের ৫১ শতাংশ নারীকে উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রেখে কোনো দেশ এগোতে পারে না।”
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান মা ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপদ প্রসব সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “চিকিৎসার অভাবে কোনো মা যেন অকালে প্রাণ না হারান, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।” এ ছাড়া কর্মজীবী নারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন সবেতন ছয় মাসের ছুটি এবং কর্মস্থলে নিরাপদ ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের অঙ্গীকার করেন তিনি। নারীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি গার্মেন্টস কর্মী ও শিক্ষার্থীদের রাত্রিকালীন চলাচলের জন্য নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা ও পুলিশের বিশেষ ‘নারী সাপোর্ট সেল’ গঠনের পরিকল্পনা জানান।
পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদার কথা উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথা বলেন, যাতে কোনো প্রবীণ মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে অসহায় জীবন কাটাতে না হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আর্থিক সহায়তা ও ডিজিটাল ট্রেনিং দেওয়া হবে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিজ্ঞানী ড. হাসিনা খান, স্থপতি ক্যাপ্টেন ইয়াসমিন এবং সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। উল্লেখ্য, এই সভায় তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামীলা রহমান সিঁথিও উপস্থিত ছিলেন।



















