বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, সরকারের কর আদায় না বাড়িয়ে যদি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়, তবে ব্যাংক খাতের ওপর ঋণের বোঝা আরও বাড়বে এবং এটি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন সময়ের মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি এই সতর্কতা প্রদান করেন। গভর্নর উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার সংকটের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কমেছে। বাজেট কাটছাঁট করার পরেও সরকারের ব্যাংক ঋণ নেওয়ার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় আর্থিক খাতে চাপ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন এবং আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার’ সংশোধন করা জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রতিশ্রুতিতে আর্থিক খাতের সংস্কারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে। ডলার সংকটের বিষয়ে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে এবং গত এক বছরে রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বিক্রি করা হয়নি। বরং আইএমএফ যে পরিমাণ ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ডলার বাজার থেকে কিনে রিজার্ভে জমা করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আর বৈদেশিক মুদ্রার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী থাকতে চায় না।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়া মুদ্রানীতির বাকি সব সূচক সফল হয়েছে। তিনি জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এখনই পলিসি রেট বা নীতি সুদহার কমানো হবে না। তবে বর্তমান মুদ্রানীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এবং বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস অনুযায়ী বাংলাদেশের অর্থনীতি সামনের দিনগুলোতে আরও ভালো করলে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আগস্ট থেকে আইএমএফ-এর শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।



















