বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি, ২০২৬)। ১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার মুখে চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে ‘উই রিভোল্ট’ বলে তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা দিশেহারা জাতিকে যুদ্ধের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বীর উত্তম’ খেতাবপ্রাপ্ত এই সেনাপতি ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হন এবং একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
জিয়াউর রহমান কেবল একজন সফল রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এক আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর প্রবর্তিত ‘১৯ দফা কর্মসূচি’ এবং দেশজুড়ে ‘খাল কাটা কর্মসূচি’র মাধ্যমে দেশে কৃষি ও অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূচনা হয়। আজকের বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস তৈরি পোশাক শিল্প এবং মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজারের ভিত্তি তিনিই স্থাপন করেছিলেন। আঞ্চলিক সহযোগিতার সংগঠন ‘সার্ক’ (SAARC) তাঁরই দূরদর্শী চিন্তার ফসল। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সৎ ও সাদামাটা এই নেতা বিশ্বাস করতেন, “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর দলের চেয়ে দেশ বড়।” তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে তিনি গ্রাম সরকার গঠন এবং গ্রাম থেকে গ্রামে পায়ে হেঁটে মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতেন।
বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শহীদ জিয়ার নাম ও অবদান মুছে ফেলার নানা অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া, বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত এমনকি সংসদ ভবন এলাকা থেকে তাঁর মাজার সরিয়ে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আজ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় তাঁর জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। দিনটি উপলক্ষে বিএনপি দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও আলোচনা সভা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটময় সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে শহীদ জিয়ার আদর্শই বাংলাদেশের জন্য আলোকবর্তিকা।



















