চলমান জ্বালানি সংকট সফলভাবে মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ সংকট প্রতিরোধে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও করণীয় উপস্থাপন করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথমদিনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং এই বিশেষ কমিটির সভাপতি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কমিটির এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় আধুনিক ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করাসহ মোট ১২টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল ১০ সদস্যবিশিষ্ট এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় এবং সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদকে এর সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। কমিটি গত ৩ মে এবং ১৯ মে তারিখে দুটি বিশেষ বৈঠক পরিচালনা করে এই সুপারিশমালা চূড়ান্ত রূপ দেয়।
বিশেষ কমিটির গৃহীত ১২টি মূল সুপারিশ
জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিশেষ কমিটির উত্থাপিত মূল সুপারিশগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধি: দেশের সামগ্রিক জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে ৩ মাসের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
- আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ: একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতে জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে হবে।
- ডিজিটাল মনিটরিং ও অটোমেশন: পুরো জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের আওতায় এনে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
- অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধ: জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ এবং পাচার রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।
- বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার: দেশের অভ্যন্তরে এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ সব ধরনের বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।
- প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন: ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপ লাইন, এসপিএম (SPM) প্রকল্প এবং ইআরএল-২ (ERL-2) দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি: জ্বালানি সাশ্রয় ও সঠিক ব্যবহারের লক্ষ্যে জনসচেতনতা ছড়ানোর কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
- বেসরকারি খাতে আমদানির সমীক্ষা: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্য আমদানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্টাডি বা সমীক্ষা করা প্রয়োজন।
- রুফটপ সোলার প্যানেল: ভবনের রুফটপে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সেই সোলার প্যানেলগুলো সচল রয়েছে কি না, তার তদারকি জোরদার করবে।
- সিস্টেম লস হ্রাস: জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সিস্টেম লস কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
- বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুষম পরিকল্পনা: তেল, গ্যাস, কয়লা, সোলার এবং উইন্ড (বায়ু বিদ্যুৎ)—এসব খাত হতে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
- বিরোধী দলের সুপারিশ অন্তর্ভুক্তি: বিশেষ কমিটির কার্যপরিধির আলোকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে কোনো গঠনমূলক সুপারিশ পাওয়া গেলে তা এই রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


















