ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সচল করতে এবং জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপ ও এশিয়ার ছয়টি শক্তিশালী দেশ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার ‘যথাযথ প্রচেষ্টায়’ অবদান রাখতে প্রস্তুত।
যৌথ বিবৃতির মূল বিষয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট:
- অবকাঠামো রক্ষায় আহ্বান: দেশগুলো অবিলম্বে তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক এবং নাগরিক অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে।
- জ্বালানি বাজার স্থিতিশীলতা: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে প্রধান জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এই ছয় দেশ।
- হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই রুটটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই সরু জলপথ দিয়েই রপ্তানি হতো।
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে এই প্রণালি সচল করতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। এতদিন সাড়া না দিলেও হোয়াইট হাউসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগমুহূর্তে এই যৌথ বিবৃতি এল।
ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে প্রণালিটি খোলা আছে, তবে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কোনো জাহাজ এখান দিয়ে পার হতে দেওয়া হবে না। এই অচলাবস্থার কারণে জাপানের মতো দেশগুলো, যারা তাদের অপরিশোধিত তেলের ৯৫ শতাংশই এই রুট দিয়ে পায়, তারা গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ৬ দেশের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নৌ-নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।



















