রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার নজিরবিহীন হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে এই হামলার সময় ডেইলি স্টার ভবনের সামনে হেনস্তার শিকার হন প্রবীণ সাংবাদিক নূরুল কবীর। শুক্রবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরিদর্শন করেন আইজিপি বাহারুল আলম এবং সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করে। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ একে পরিকল্পিত আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর এই কালো দিনটি নামিয়ে এনেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে প্রথম আলোর কর্মীরা মানববন্ধন করেন, যেখানে সম্পাদক মতিউর রহমানসহ সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টাসহ সম্পাদক পরিষদ, নোয়াব এবং দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক ও নাগরিক সংগঠন গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। নাগরিক সমাজ ও শিক্ষাবিদরা একে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে নাগরিক সমাবেশ থেকে বলা হয়েছে যে, গণমাধ্যম ও ছায়ানটের মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে এমন সহিংসতা জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুই পত্রিকার সম্পাদককে ফোন করে নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও, সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব মনে করে—মব ভায়োলেন্স দমনে সরকারের ব্যর্থতার কারণেই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।



















