বিদ্যুৎ ও পানি সংকট নিয়ে টানা বিক্ষোভে অন্তত ২২ জন নিহত হওয়ার পর মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনা তার সরকার ভেঙে দিয়েছেন। সহিংসতায় আরও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে রাজোয়েলিনা জানান, জনগণের ক্ষোভ তিনি উপলব্ধি করেছেন এবং সরকারের ব্যর্থতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, “সরকার যদি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, আমরা তা স্বীকার করছি এবং ক্ষমা চাইছি।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে শুধু বিক্ষোভকারী নন, সাধারণ মানুষও রয়েছেন। কেউ নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে, আবার কেউ লুটপাট ও গ্যাং সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন। তবে মাদাগাস্কারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব তথ্যকে ‘গুজব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাজধানী আন্তানানারিভোসহ বিভিন্ন শহরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানি সংকটের প্রতিবাদে ‘জেন জি’ নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। তৃতীয় দফায় শুরু হওয়া এই আন্দোলন থেকে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি উঠে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে।
প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা জানান, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানি সংকটের কারণে জনগণের যে দুঃখ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, আমি তা গভীরভাবে বুঝতে পারি।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, বিক্ষোভে অন্তত ২২ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। তবে মাদাগাস্কার সরকার এ দাবি নাকচ করেছে।
আফ্রিকার কেনিয়া ও এশিয়ার নেপালের আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মাদাগাস্কারের তরুণরা রাজপথে নেমে আসায় এ প্রতিবাদ দেশটিতে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।



















