মঙ্গলবার , ৯ জুন ২০২৬ | ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

নারী-শিশু নির্যাতন মামলা সাজার হার মাত্র তিন শতাংশ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ৯, ২০২৬ ২:৪০ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

বাংলাদেশে গত এক দশকে সংঘটিত ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের অধিকাংশ মামলার বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি. কুমিল্লা সেনানিবাসের আলোচিত তনু হত্যা ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো চার্জশিট দাখিল করা যায়নি. ২০১৮ সালের নোয়াখালীর সুবর্ণচরের দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ২০২৪ সালে আদালত ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে. অন্যদিকে ২০২০ সালে রংপুরের পীরগঞ্জে ধর্ষণের শিকার এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কিশোরীর মামলার ৬ বছর পার হলেও এখনো বিচার শুরু করা যায়নি. সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেশের আদালতসমূহে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত প্রায় দেড় লাখ ঝুলে থাকা মামলার এই ভয়াবহ চিত্র এবং সাজার চরম নিম্নহারের তথ্য সামনে এসেছে.

গবেষণা ও পরিসংখ্যানের মূল তথ্যসমূহ

৩২টি জেলার ৪৬টি ট্রাইব্যুনালে গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া ৪ হাজার৪০টি মামলার নথি ও রেজিস্ট্রার পর্যালোচনা করে ব্র্যাক ও সুপ্রিম কোর্টের যৌথ গবেষণায় নিম্নলিখিত চাঞ্চল্যকর তথ্যসমূহ উঠে এসেছে:

  • সাজার হার ও খালাস: নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোতে সাজার হার মাত্র ১ থেকে ৩ শতাংশ. এর বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলার আসামিরা আইনি ফাঁকফোকর বা অন্য কোনো উপায়ে খালাস পেয়ে যাচ্ছেন.
  • দীর্ঘসূত্রতা: আইনানুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির স্পষ্ট বিধান থাকলেও বাস্তবে একটি মামলা শেষ হতে গড়ে ৩ বছর ৭ মাস সময় লাগছে. এই দীর্ঘ সময়ে এসব মামলায় শুনানির তারিখ পড়ছে গড়ে ২২ বার.
  • আপস-মীমাংসা: দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা ও চাপের কারণে প্রায় ১৩ শতাংশ মামলায় ভুক্তভোগী পক্ষ আসামিদের সাথে আপস করতে বাধ্য হয়েছে.
  • বিচারাধীন মামলার পাহাড়: বর্তমানে দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৫০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে. এর মধ্যে ৪২ হাজার ২৭২টি মামলাই পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে. হাইকোর্টের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৯৯টি ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল, যার ৩০ হাজার ৩৬৫টিই পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো.
  • রায়ের বিরল নজির: এই দীর্ঘসূত্রতার মধ্যেও রাজধানীর পল্লবীতে সম্প্রতি ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক.

ট্রাইব্যুনাল সংকট ও রায় কার্যকরের পরিসংখ্যান

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মাত্র ১০১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কার্যকর রয়েছে এবং প্রতিটি ট্রাইব্যুনালে গড়ে প্রায় দেড় হাজার মামলা বিচারাধীন, যা বিচারকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সংঘবদ্ধ ও একক ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে মাত্র পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে. অন্যদিকে, একই অপরাধে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে প্রায় ১৫০ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি থাকলেও ডেথ রেফারেন্স ও নানাবিধ আইনি জটিলতার কারণে তাদের রায় এখনো কার্যকর করা যায়নি.

সমাজ বিজ্ঞানী ও মানবাধিকার আইনজীবীদের পরামর্শ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সমাজ ও অপরাধ গবেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, অপরাধের পর দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে কমে গেছে. জড়িতদের দ্রুত সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির তৈরি করা না গেলে সমাজে এই অপরাধপ্রবণতা কোনোভাবেই বন্ধ হবে না.

মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী উল্লেখ করেন যে, নারীর প্রতি সহিংসতার চার ভাগের এক ভাগ ঘটনাও গণমাধ্যমে আসে না, কেবল আলোচিত কিছু ঘটনাই সামনে আসে. এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তিনি কয়েকটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:

  • প্রতিটি ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিবিড় মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে.
  • নারীর প্রতি সহানুভূতিশীল পুলিশ ও বিচারকের মাধ্যমে মামলার তদন্ত এবং বিচার কাজ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে.
  • অপরাধ প্রতিরোধের জন্য স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উইংয়ের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে.

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে জানান যে, ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ সব সময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে তারা বদ্ধপরিকর.

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

ঈদ সামনে রেখে বিপুল জাল টাকা ছড়িয়েছে একটি চক্র : ডিবি

সাতরাস্তা মোড়ে অবরোধ প্রত্যাহার

স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা পুনর্বহাল: ফিরছে হাজার কোটি টাকার কোচিং বাণিজ্য

আশিক গুলিবিদ্ধ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

৩০ বছরে পা দিয়ে মধুমিতা বললেন, বয়সটার সঙ্গে অভ্যস্ত করে নিয়েছি আগেই।’

সাইপ্রাসে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা

অনলাইন নিরাপত্তায় সতর্কতার আহ্বান ডিএমপি কমিশনারের

সাভারে ফুটপাত দখলে বাধা: হকারদের হামলায় আহত ৬ আনসার সদস্য

সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও শোক প্রকাশ

রিহ্যাব ফেয়ারে “হোপ হোমস লিমিটেড” ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে