আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চরম বিরোধের জেরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট এখন ভাঙনের মুখে। জোটের অন্যতম প্রধান শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে যে, আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে তাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কোনো আলোচনা ছাড়াই অন্যায্য সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অসন্তোষের জেরে বুধবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে জোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার জন্য নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করতে বাধ্য হয় জামায়াত।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দাবি, তারা অন্তত ১২০টি আসনে ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে লড়তে চায়, যেখানে জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ ৪২টি আসন ছাড়তে রাজি। এই বিশাল ব্যবধান এবং জোটের অন্যান্য নতুন শরিক দল—যেমন এনসিপি ও এবি পার্টিকে দেওয়া গুরুত্ব নিয়ে চরমোনাই পীরের দলটির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দলটির মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সম্মানজনক সমঝোতা না হলে তারা জোট ছেড়ে পুরনো ৫টি ইসলামি দল নিয়ে পৃথক জোট গঠন করতে পারেন।
অন্যদিকে, জামায়াতের একক আধিপত্যের চেষ্টার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক এবং জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে আলোচনাকে সমমনা ইসলামি দলগুলো সন্দেহের চোখে দেখছে। জামায়াত আমিরের এই পদক্ষেপকে অনেকে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত এই টানাপোড়েন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ইসলামি দলগুলোর তথাকথিত ‘একবক্স ভোট’ নীতির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।



















