সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল-ফাশের শহরে সাম্প্রতিক সহিংসতায় অন্তত ১,৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) শহরটি দখল করার সময় এই হত্যাযজ্ঞ চালায়। একটিমাত্র হাসপাতালে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৪৬০। শহরে মৃতদেহ কবর দেওয়ার মতো নেই, আর আহতরা খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছেন।
জাতিসংঘ জানাচ্ছে, শহরের পরিস্থিতি মারাত্মক, ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ ৭০ কিলোমিটার দূরের তাভিলা শহরে পালিয়েছে। তাভিলায় ইতোমধ্যেই ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এখনও সীমিত।
সাক্ষীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আরএসএফ সদস্যরা ব্যক্তিগত বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালিয়েছে এবং ঘরের সদস্যদের হত্যা করেছে। তাভিলা শরণার্থী শিবিরের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, অনেক পালানো মানুষ পথেই মারা গেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেন, দারফুরে ৪৫০ জনেরও বেশি হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের জন্য সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফান্ড থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে।
সুদান বিশেষজ্ঞ শায়না লুইস জানিয়েছেন, দারফুরের এই হত্যাযজ্ঞ অত্যন্ত মর্মান্তিক। মহাকাশ থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্রে বিশাল এলাকা রক্তাক্ত এবং মৃতদেহের ছায়া দেখা যাচ্ছে। এল-ফাশের এখনো খাদ্য, পানি ও ওষুধের চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



















