মঙ্গলবার , ১০ জুন ২০২৫ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

গহনা আমদানিতে কড়াকড়ি: দেশীয় সোনার বাজারে অস্থিরতার পূর্বাভাস

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ১০, ২০২৫ ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সোনার দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যা মধ্য ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বিয়েশাদির মতো পারিবারিক অনুষ্ঠানে অলংকার কেনা কঠিন করে তুলেছে। এর ফলে জুয়েলারি ব্যবসায়ও সংকট বাড়ছে। মুক্তবাণিজ্যের এই যুগে বিশ্ববাজারের চেয়ে বাংলাদেশের ভোক্তাদের অনেক বেশি দামে সোনার অলংকার কিনতে হচ্ছে।

দেশের বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ১ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যেখানে ২০২৪ সালের শেষ দিকেও এর দাম ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৮৬ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়েছে ৩১ হাজার ৭৫০ টাকা

বিশ্ববাজারে দামের তুলনা:

দুবাই জুয়েলারি গ্রুপ এবং ভারতের বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল (সোমবার) ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুবাইয়ে ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৭৭ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়) এবং ভারতে ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৩২ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়)। এর অর্থ হলো, বাংলাদেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা দুবাইয়ের চেয়ে ২৮ হাজার ৬৫৯ টাকা এবং ভারতের চেয়ে ১৬ হাজার ৯০৪ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

দামের পার্থক্যের কারণ:

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির নেতারা বিশ্ববাজারের তুলনায় সোনার দামের এই বিশাল পার্থক্যের পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশে অন্যান্য দেশের মতো ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ নেই এবং বাণিজ্যিকভাবেও সোনা আমদানি হয় না। দেশের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ হয় ব্যাগেজ বিধিমালায় শুল্ক দিয়ে বিদেশ থেকে আসা সোনা দিয়ে। এছাড়া, পুরোনো অলংকার এবং অবৈধ পথে আসা সোনাও বাজারের চাহিদা মেটায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সোনা আমদানি নীতি ও ব্যাগেজ বিধিমালায় কড়াকড়ি:

দেশে সোনার ব্যবসায় স্বচ্ছতা আনতে ২০১৮ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্বর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন করে। পরের বছর বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ব্যাংকসহ ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিকভাবে সোনা আমদানির লাইসেন্স দেয়। পরে আরও একটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়। শুরুতে কিছু প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে সোনা আমদানি করলেও, ডলার-সংকট, অনুমতি পেতে সময়ক্ষেপণ এবং ভ্যাটের কারণে ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারান এবং আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ব্যাগেজ বিধিমালায় সোনা আনার সুযোগ অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া হয় (২৩৪ গ্রাম থেকে ১১৭ গ্রাম)। পাশাপাশি, প্রতি ভরি শুল্ক ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার টাকা করা হয়।

সেই ধারাবাহিকতায়, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যাগেজ বিধিমালায় সোনা আনার ওপর আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এত দিন বিদেশ থেকে ফেরার সময় প্রতিবার সর্বোচ্চ ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি করে সোনার বার আনা গেলেও, সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন কোনো যাত্রী বছরে একবারই শুল্ক দিয়ে একটি সোনার বার আনতে পারবেন। এছাড়া, সোনার বার আনার ক্ষেত্রে প্রতি ভরিতে (১১.৬৬৪ গ্রাম) শুল্ক ৪ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, ফলে একটি সোনার বার আনতে ৫০ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে।

শুধু সোনার বার নয়, সোনার গয়না আনার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আগে একজন যাত্রী বিদেশ থেকে ফেরার সময় যতবার খুশি ততবার ১০০ গ্রাম ওজনের সোনার গয়না বিনা শুল্কে আনতে পারতেন। এখন সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং একজন যাত্রী বছরে মোট ১০০ গ্রাম ওজনের সোনার গয়না বিনা শুল্কে আনতে পারবেন। এই বিধানটি ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

জুয়েলার্স সমিতির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, যেহেতু বৈধ পথে সোনা আমদানি হয় না এবং দেশে সোনা পরিশোধনের কোনো কারখানা নেই, সেহেতু ব্যাগেজ বিধিমালায় অলংকার আনায় কড়াকড়ি আরোপ করাটা ভালো সিদ্ধান্ত হয়নি। এতে অবৈধ পথে সোনা আসা বাড়বে এবং দাম নিয়ে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

জুয়েলার্স সমিতির প্রস্তাবনা ও এনবিআরের সিদ্ধান্ত:

জানা যায়, জুয়েলার্স সমিতি আগামী অর্থবছরের বাজেটে সোনা ও রুপার অলংকারের বিক্রিতে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা, ডিলারদের কাছে ব্যবসায়ী পর্যায়ে সোনা কেনায় ভ্যাট অব্যাহতি, সোনা আমদানিতে বিমানবন্দরে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু এবং সোনা পরিশোধন কারখানার জন্য ১০ বছরের কর অব্যাহতিসহ বেশ কিছু দাবি জানিয়েছিল। এছাড়াও, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় সমিতির নেতারা সোনার আমদানি সহজ করে ব্যাগেজ বিধিমালায় সোনার বার ও অলংকার আনায় কড়াকড়ি করার প্রস্তাব দেন। শেষ পর্যন্ত এনবিআর শুধু এই শেষ প্রস্তাবটিই আমলে নেয়।

জানতে চাইলে জুয়েলার্স সমিতির নির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, “সোনা আমদানি সহজ না করে শুধু ব্যাগেজ বিধিমালায় সোনার বার ও অলংকার আনায় কড়াকড়ি আরোপ করায় সংকট বাড়বে। সোনার সরবরাহ কোথা থেকে আসবে? আমদানি হচ্ছে না। পরিশোধনের কারখানাও নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মনে হচ্ছে, অবৈধ পথে সোনা আসা অর্থাৎ চোরাচালান বাড়বে।”

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত