সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গ-সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও, রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দলটির নেতাকর্মীরা নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে। ইফতার সামগ্রী বিতরণ, কার্যালয়ের তালা ভাঙা এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে তারা মাঠে ফেরার চেষ্টা করছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ এবং ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ব্যানারে নানা কর্মসূচি পালন করার খবর পাওয়া গেছে। অনেক স্থানে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের ছবি পুনঃস্থাপন এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করার ঘটনাও ঘটেছে।
নির্বাচন পরবর্তী সুযোগ ও জনরোষ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন জোটের পক্ষে কাজ করার সুবাদে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কিছুটা প্রকাশ্য হওয়ার সুযোগ পায়। তবে তাদের এই তৎপরতা সর্বত্র নির্বিঘ্ন হচ্ছে না। কুড়িগ্রাম ও বরিশালের মতো বেশ কিছু এলাকায় আওয়ামী লীগের ব্যানার ও কার্যালয় খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং উত্তেজিত জনতা সেসব গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অনেক স্থানেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে নিষিদ্ধ দলটির অনুসারীদের।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ ও গ্রেফতার আওয়ামী লীগের এই অপতৎপরতা সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি সজাগ রয়েছে। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের এই ক্রান্তিকালীন সুযোগ নিতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ, কিন্তু তা সফল হতে দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “নিষিদ্ধ কোনো দলকে কোনো ধরনের কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না।” ইতিমধ্যে দিনাজপুর, নোয়াখালী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সারা দেশে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।



















