দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী ২৫ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা এবং এরপর মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উপলক্ষে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই। প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীনভাবে এবং নিরাপদ পরিবেশে পালনের অধিকার রয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সরকার দেশে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা এবং সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—এবং সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
চলমান দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ব্যবহারের পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, ব্যক্তিগত বিরোধ, জমিজমা কিংবা পরিচালনা কমিটি-সংক্রান্ত বিরোধকে কখনো কখনো ধর্মীয় হামলা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের অপপ্রচার ও সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা প্রতিরোধ করা হবে।
চলমান দুর্গোৎসবের মতো প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য, সংযম, মন ও চেতনার শুদ্ধি, ঐতিহ্যবাহী ফানুস ওড়ানো এবং কঠিন চীবর দানের ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারগুলোর তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তালিকা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।
মতবিনিময় সভায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষুসহ বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


















