অনির্ধারিত সফরে দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দুই দেশের সম্পর্কসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ঢাকার বর্তমান অবস্থান দিল্লিকে জানাতেই দীনেশ ত্রিবেদীর এ সফর বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
এর আগে সোমবার রাতে ঢাকা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। তবে তাঁর এ সফর ও মোদির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া প্রথম ভারতীয় হাইকমিশনার
বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে তিনি প্রথম ভারতীয় হাইকমিশনার, যিনি পেশাদার কূটনীতিক না হয়েও রাজনৈতিক বিবেচনায় এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁর নিয়োগ চূড়ান্ত করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
এ কারণে দিল্লি সফরে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই আলোচনা চলছে। তবে সফরের তারিখ ও আনুষ্ঠানিক আয়োজন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার দাবি। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধের বিষয়ে দিল্লির সিদ্ধান্ত না আসায় দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি রয়ে গেছে।
এ ছাড়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়নও দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ৩০ বছর মেয়াদি এ চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তবে চুক্তি নবায়ন নিয়ে দুই সরকারের আলোচনায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এসব অমীমাংসিত বিষয় এবং সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফরকে সামনে রেখে দীনেশ ত্রিবেদীর দিল্লি সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে


















