বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিতের যে ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসন দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছে ঢাকা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট ও পূর্ণাঙ্গ প্রভাব সম্পর্কে নিবিড়ভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং এর সময়সীমা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পরই বাংলাদেশ তার পরবর্তী পদক্ষেপ ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন এই অভিবাসন নীতি আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। মূলত ‘পাবলিক চার্জ’ (Public Charge) বা সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর যুক্তিতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, যেসব দেশের অভিবাসীরা অগ্রহণযোগ্য হারে মার্কিন কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করে, সেই তালিকায় থাকা ৭৫টি দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিশ্চিত হতে চায় যে, নতুন অভিবাসীরা মার্কিন অর্থনীতির জন্য বোঝা না হয়ে স্বাবলম্বী হিসেবে প্রবেশ করবেন। এই স্থগিতাদেশ কতদিন বহাল থাকবে, তা পর্যালোচনার পর জানানো হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞাটি মূলত স্থায়ীভাবে বসবাসের লক্ষ্যে আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য, তাই ট্যুরিস্ট বা স্টুডেন্ট ভিসার মতো নন-ইমিগ্র্যান্ট ক্যাটাগরিগুলো এর বাইরে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় সরকার একে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।



















