শুক্রবার , ২ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

জানুয়ারিতে তিন ধাপে ইউপি নির্বাচনের পরিকল্পনা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ২, ২০২৬ ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

আগামী বছরের জানুয়ারিতে তিন ধাপে দেশের প্রায় ২ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম ধাপের ভোট হতে পারে। এরপর তৃতীয় ও শেষ সপ্তাহে আরও দুই ধাপে ভোট নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রথম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ৭ জানুয়ারি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোট আয়োজন করা হলে প্রথম ধাপের তফসিল নভেম্বরের মাঝামাঝি ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে পরবর্তী ধাপগুলোর তফসিল ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু করার সক্ষমতা রয়েছে কমিশনের। রমজান শুরুর আগে তিন ধাপে প্রায় ২ হাজার ইউপিতে ভোট নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ভোটের তারিখের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

তিনি জানান, নভেম্বর-ডিসেম্বরে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক আলোচনা; কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

পরীক্ষার সূচি ও রমজান বিবেচনায়

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় বিভিন্ন পক্ষের মতামতের পর নভেম্বর থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর আগের পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছে ইসি। এর আগে পরীক্ষার ফাঁকে ১২ নভেম্বর থেকে নির্বাচন শুরুর সম্ভাব্য সময়ের কথা জানিয়েছিল কমিশন। শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে করার কথাও ভাবা হয়েছিল।

তবে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার সূচির বিষয়টি উঠে আসে। একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা, রমজান, ধর্মীয় উৎসব ও জাতীয় কর্মসূচির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনা করে কমিশন পরবর্তী কাজ এগিয়ে নেবে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ইসি সচিব বলেন, ভোটার তালিকা, ভোটের সরঞ্জাম ও ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এখন স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনা করে ভোটের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।

ইউপি নির্বাচনের বিধিমালায় বড় পরিবর্তন

আসন্ন ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০-এ সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয় ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ না পেলে জামানত বাজেয়াপ্তের বিধান রাখা হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ ও আয়কর রিটার্নের কপি দেওয়ার বিধানও যুক্ত হয়েছে।

নির্বাচনে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসির ক্ষমতা বাড়ানো, হলফনামায় তথ্য আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন এবং নির্দলীয় প্রার্থীদের প্রতীক সংরক্ষণসহ বেশ কিছু সংশোধন আনা হয়েছে।

দলীয় প্রতীক থাকছে না ইউপি চেয়ারম্যান পদে

সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান পদে ২০টি, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে।

চেয়ারম্যান পদে আগে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীক ব্যবহারের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীক ছিল। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান পদে নির্দলীয় প্রতীকের তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ধাপে ধাপে স্থানীয় নির্বাচন

বর্তমান কমিশন জাতীয় ও অন্যান্য নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনও পর্যায়ক্রমে আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

ইউপি নির্বাচন নিয়ে ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ভোট শুরু করে রমজানের আগে প্রায় ২ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে চূড়ান্ত ভোটের তারিখ ও তফসিল কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

সর্বশেষ - অপরাধ