স্বাধীনতার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক নানা সময়ে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে দুই দেশের সম্পর্কের সেই উত্তেজনা কূটনৈতিক অঙ্গনেও দৃশ্যমান হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বিভিন্ন আয়োজনে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি প্রশ্নে এর প্রতিফলন দেখা গেছে।
গত বুধবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের এক আয়োজনে ভারতের কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অন্য দেশের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা বা সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের অর্থনৈতিক সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়া।
এর একদিন পর বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রবেশের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, পাকিস্তান কবে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করবে। পরে সদর দফতর থেকে বের হওয়ার সময়ও তাকে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সাইদকে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। দুই ক্ষেত্রেই শরিফ কোনো উত্তর না দিয়ে চলে যান।
এর পরদিন শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একটি সাইডলাইন আয়োজনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে পাকিস্তানের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারত সরকার কবে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করবে।
প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘একটি সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে?’ এরপর তিনি ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা কক্ষ ত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাংবাদিকটি তখনও তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করে আসছে। দুই দেশই এসব অভিযোগের বিষয়ে পরস্পরের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে থাকে।
জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি প্রশ্নে পুরোনো বিরোধের বিষয়গুলো আবারও সামনে এসেছে। ফলে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা দৃশ্যমান হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি


















