বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

মজুদে ১৬ লাখ টন বেশি, তবু মাঠে সারের সংকট কেন

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। বরং আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় সরকারি মজুদ রয়েছে প্রায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টন বেশি। এরপরও আমন মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সারের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। কোথাও চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির ঘটনাও ধরা পড়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সারের সম্ভাব্য চাহিদা ৩৫ লাখ ২০ হাজার টন। এর বিপরীতে সরকারি মজুদ রয়েছে ৫১ লাখ ৮৩ হাজার টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় মজুদ প্রায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টন বেশি।

এ অবস্থায় মাঠ পর্যায়ে সার সংকটের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকার ও বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) বলছে, একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে। তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারের বিতরণের শেষ ধাপের ব্যবস্থাপনা, ডিলারদের অনিশ্চয়তা, সমন্বয়হীন মনিটরিং ও দুর্বল নজরদারির কারণেও স্থানীয় পর্যায়ে সংকট তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে নতুন ডিলারনীতি বাস্তবায়নের সময় নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

মজুদ পর্যাপ্ত, সংকট বিতরণে

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে জেলার চাহিদার ভিত্তিতে ৭৭ হাজার ৬৪০ টন নন-ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৮ হাজার ৭২৬ টন। অক্টোবর মাসের চাহিদা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৯০ টন। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৯০ টন এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ৭ হাজার টন সার সরবরাহ করবে।

অক্টোবরে বরাদ্দ করা টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার বিধি অনুযায়ী ডিলারদের মধ্যে উপবরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে বরাদ্দ পাওয়া ডিলারদের মাসের ৭ তারিখের মধ্যে টাকা জমা দিয়ে সার উত্তোলন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার থাকার পরও স্থানীয় বাজারে সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ডিলারের গুদামে সার না থাকলেও অন্যত্র অতিরিক্ত দামে সেই সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফলে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর শেষ ধাপে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নতুন ডিলারনীতিতে অনিশ্চয়তা

সার সংকটের পেছনে নতুন ডিলারনীতি বাস্তবায়নের প্রভাবও দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। আমন মৌসুমে সারের চাহিদা বাড়ার সময়ই ডিলার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞদের মত।

পুরনো ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যেতে পারে—এমন গুঞ্জনের কারণে কোনো কোনো ডিলার সরকারি গুদাম থেকে সার উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছেন বা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও নতুন নীতিমালায় যোগ্য পুরনো ডিলারদের বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ও বিদ্যমান রাসায়নিক সার খুচরা বিক্রেতাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল। তবে নীতির পরিবর্তন এবং মাঠ পর্যায়ে সেই বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় সরবরাহব্যবস্থায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি অংশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। এরপরও অসাধু ও অসংগঠিত ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ডিলারদের গুদাম থেকে সার লুট করে সংকট তৈরির অপচেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিলারদের নির্ধারিত সময়ে বরাদ্দের সার উত্তোলন করে নিজস্ব গুদামে সংরক্ষণ এবং কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছে।

সার নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

অভিযানে ১ হাজার ৭০০ বস্তা সার উদ্ধার

সার বিতরণ স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ে অভিযানও জোরদার করেছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৩০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার ৮২৪ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ৭০০ বস্তা সার এবং চারজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দেশের ৬৪ জেলায় সার পরিস্থিতি নিয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। সার পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকার কৃষি কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

চালু হয়েছে সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষি মন্ত্রণালয় ‘সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম’ চালু করেছে। ১১ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটি দুই শিফটে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম শিফট সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা এবং দ্বিতীয় শিফট বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

কন্ট্রোল রুম পরিচালনায় ২৭টি দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে একজন কর্মকর্তা, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহায়ক রয়েছেন। সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে কন্ট্রোল রুমের সার্বিক তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার সরবরাহ, মজুদ, পরিবহন ও বিতরণের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পরিবহনে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট, অবৈধ মজুদ, কালোবাজারি কিংবা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার উপসচিব মো. রোকনুজ্জামান বলেন, সারের মজুদ ও চাহিদাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায় থেকে প্রতিনিয়ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোথাও সমস্যা বা ঘাটতির তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সার ব্যবস্থাপনা ও বিতরণে মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ে দুটি কমিটি

সার সংকটের কারণ অনুসন্ধান ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৫ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি কমিটি গঠন করে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি সার বিতরণ ও ডিলার ব্যবস্থাপনার মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কমিটি সারা দেশে ডিলারদের বরাদ্দ, সার উত্তোলন ও বিতরণের তথ্য সংগ্রহ করে অনিয়ম শনাক্তের কাজ করছে।

এর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। সার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কাজ করছে।

কৃষক পর্যায়ে দাম অপরিবর্তিত

এদিকে কৃষক পর্যায়ে সারের দাম অপরিবর্তিত রেখে ডিলারদের কমিশন কেজিপ্রতি তিন টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি—এই চার ধরনের সারের কৃষক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য আগের মতোই থাকবে।

ডিলারদের জন্য প্রতি কেজি সারের ক্রয়মূল্য এক টাকা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডিলারদের বিদ্যমান দুই টাকা কমিশন বাড়িয়ে প্রতি কেজিতে তিন টাকা করা হয়েছে।

সরকারি মজুদ পর্যাপ্ত থাকার পরও মাঠ পর্যায়ে সার পৌঁছানো নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে এখন সরবরাহের শেষ ধাপের ব্যবস্থাপনা, ডিলারদের কার্যক্রম এবং বাজার তদারকির ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

নতুন সরকারের প্রথম ঈদ, চাঞ্চল্য অর্থনীতিতে

টানা বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে

লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক নয় : ইরান

গাজীপুরে পুলিশের ‘গণপুলিশিং সার্ভিস’ চালু

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে আবারও সংঘাত; নিহত অন্তত ৭

দেশের অর্থ পাচার করে বিদেশে শীর্ষ ধনী

সংসদ অধিবেশন রবিবার পর্যন্ত মুলতবি: রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন বিরোধী দলের ওয়াকআউট

ইরানকে ঘিরে নতুন মার্কিন পরিকল্পনা জানানো হলো ইসরায়েলকে

‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত: নিহতদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও পরিবারকে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস সরকারের