ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই তা গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তেহরান মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসবে না।
বর্তমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আলোচনার টেবিল থেকে ইরানের সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
যদিও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছিল যে ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে, তবে ফার্স নিউজ এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে:
- আনুষ্ঠানিক অবস্থান: ইরান ইতিমধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানকে জানিয়ে দিয়েছে যে, লেবাননে বোমা হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় তারা আলোচনার কোনো পরিকল্পনা রাখছে না।
- শর্ত: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করেছেন যে, আলোচনার সাফল্য নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ‘সব ফ্রন্টে’ (বিশেষ করে লেবাননে) যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছে কি না তার ওপর।
২. লেবাননে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়
গত বুধবার থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা আরও তীব্র হয়েছে, যা মূলত এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার প্রধান কারণ:
- সাম্প্রতিক হতাহত: গত দুই দিনে লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে অন্তত ৩০৩ জন নিহত এবং ১,১৫০ জন আহত হয়েছেন।
- মোট প্রাণহানি: গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলায় এ পর্যন্ত মোট ১,৮৮৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৬,০৯২ জনেরও বেশি।
৩. ট্রাম্পের অবস্থান ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি কেবল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংঘাতের জন্য, এতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। কিন্তু ইরান একে তাদের আঞ্চলিক মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর একতরফা হামলার সুযোগ হিসেবে দেখছে।
- বিশ্লেষকদের মত: যদি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে লেবাননে হামলা থেকে বিরত রাখতে না পারে, তবে সাময়িক এই যুদ্ধবিরতি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে, যার প্রভাব সরাসরি হরমুজ প্রণালী এবং বিশ্ব তেলের বাজারে পড়বে।
৪. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের কারণ
লেবাননে চলমান এই সহিংসতায় সেখানে অবস্থানরত কয়েক হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননে অনেক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন, যাদের নিরাপত্তা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সারসংক্ষেপ: আজকের এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা প্রমাণ করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ওপর নির্ভর করছে না। লেবানন ইস্যু সমাধান না হলে শনিবারের ইসলামাবাদ বৈঠক কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর


















