দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিতে ব্যাপক চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বেড়েছে এবং নতুন উদ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিবেশ স্বস্তিদায়ক হওয়ায় এর ইতিবাচক প্রভাব সরাসরি ঈদের বাজারে পড়ছে। ঢাকা শহরের বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ প্রধান বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় এবং উৎসবমুখর পরিবেশ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহ ও গ্রামীণ অর্থনীতি:
- রেকর্ড রেমিট্যান্স: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনা সত্ত্বেও প্রবাসীরা স্বজনদের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠাচ্ছেন। চলতি মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই ২২০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন যে, যুদ্ধের প্রভাব এখনো রেমিট্যান্স প্রবাহে পড়েনি।
- সরকারি উদ্যোগ: গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ এবং ‘কৃষক কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের উদ্যোগ এবং পোশাক খাতের শ্রমিকদের সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধের ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যেও ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
- ব্যবসা-বাণিজ্যের আকার: দোকান মালিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী, এবারের রোজার ঈদে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। পোশাক খাতেই প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোও (এসএমই) বেশ ভালো করছে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা:
পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনমনে স্বস্তি থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদী কিছু ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আকাশপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিশেষ করে ওমান, সৌদি আরব ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে নতুন কর্মী পাঠানো সাময়িকভাবে থমকে গেছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও অভ্যন্তরীণ বাজারে কেনাকাটার ধুম এবং যাকাত ও ফিতরা বাবদ গরিব মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছানোয় গ্রামীণ জনপদে টাকার প্রবাহ বেড়েছে। অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, নতুন সরকারের প্রথম ঈদ হওয়ায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিজ এলাকায় অবস্থান ও সাহায্য-সহযোগিতা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে।



















