ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবস শেষে আগামী রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এই ঘোষণা দেন। প্রথম দিনের অধিবেশনে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং শোক প্রস্তাব গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন হলেও শেষ দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ কক্ষ।
অধিবেশনের প্রথম দিনের ঘটনাক্রম:
- স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবে কণ্ঠভোটে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি তাঁদের শপথ পাঠ করান।
- প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী ভাষণ: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে এই সংসদকে ‘জনগণের সংসদ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকার করেন।
- শোক প্রস্তাব ও মোনাজাত: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিগত সময়ে প্রয়াত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নেতাদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বিরোধী দলের ওয়াকআউট: বিকেলের সেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দিতে দাঁড়ালে সংসদ কক্ষে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি)-র সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে স্লোগান দিতে দিতেই বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করে সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ সম্পন্ন করেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির রেশ ধরেই প্রথম দিনের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়। আগামী ১৫ মার্চ বেলা ১১টায় দ্বিতীয় কার্যদিবসের আলোচনা শুরু হবে।



















