মঙ্গলবার , ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে দক্ষ মানবসম্পদের বিকল্প নেই। তবে স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে নিরক্ষরতা দূরীকরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, টানা তিন বছর ধরে দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে স্থির রয়েছে। পাঁচ বছরে এই হার বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে এখনো দেশের প্রায় ২১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর, যাদের সংখ্যা প্রায় চার কোটি।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ শিক্ষার মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা থেকে বঞ্চিত। সরকারের লক্ষ্য ২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা।

তিন বছর ধরে একই জায়গায় সাক্ষরতার হার

বিবিএসের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশে। এরপর ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫—টানা তিন বছর হারটি ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশেই স্থির রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাক্ষরতা বৃদ্ধির জন্য সারা বছর ধারাবাহিক কার্যক্রমের ঘাটতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস এলে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়ে গেছে।

মাঠপর্যায়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনবল রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রকল্প ও কার্যক্রম না থাকায় মাঠপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের সাক্ষরতার জন্য একটি পাইলট প্রকল্প পরিচালিত হয়। এতে অংশ নেয় মাত্র ৬ হাজার ৮০৫ জন। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাক-বৃত্তিমূলক বিশেষ কার্যক্রমে যুক্ত করা হয় ৪ হাজার ১৯৮ জনকে।

নিরক্ষরতা কমাতে বড় পরিকল্পনা

বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোর ও নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে মৌলিক শিক্ষা এবং কর্মমুখী দক্ষতার আওতায় আনতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

‘অলটারনেটিভ লার্নিং অপরচুনিটি (এএলও)’ কার্যক্রমের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ৬৪টি নির্বাচিত উপজেলায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি ১৯ হাজার ২০০ বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোরকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মৌলিক শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি আরও ১৯ হাজার ২০০ তরুণকে জীবিকায়ন দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া ‘স্কিল ফোকাসড লিটারেসি ফর আউট অব স্কুল অ্যাডোলেসেন্ট (স্কিলফো)’ কার্যক্রম আরও ১৬ জেলায় সম্প্রসারণ করে তিন বছরে এক লাখ কিশোর-কিশোরীকে দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি অর্থবছরে বিশেষ কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে ৫০ জেলায় আরও ৪ হাজার কিশোর-কিশোরীকে প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ‘অ্যাডাল্ট লিটারেসি অ্যান্ড ফাংশনাল অ্যাবিলিটি (আলফা) এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর পাইলট পর্যায়ে ৪০ জেলার ৪০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার নারী-পুরুষকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সি ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ধারাবাহিক উদ্যোগের তাগিদ

শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু দিবসকেন্দ্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিরক্ষরতা দূর করা সম্ভব নয়। নিরক্ষর ও বিদ্যালয়বহির্ভূত জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি দারিদ্র্য, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে হবে।

সাক্ষরতা কার্যক্রমকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, মাঠপর্যায়ে নজরদারি এবং সাক্ষরতার সঙ্গে কর্মদক্ষতার সংযোগ ঘটানো জরুরি। তাহলেই বিপুলসংখ্যক মানুষকে কার্যকর সাক্ষরতার আওতায় এনে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ - অপরাধ