শিক্ষা খাতে বাজেটের বরাদ্দ বর্তমান ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২৩তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব শিক্ষার্থীকে এক হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ বাড়াতে সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে একসঙ্গে চারটি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছিল। সে সময় তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষক নিয়োগের জটিলতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি জটিলতায় আটকে আছে। দ্রুত এসব জটিলতা নিরসন করে নিয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় কাঠামো নিয়েও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট, আর্কিটেকচারের পাশাপাশি আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংয়ের মতো বিভাগ চালুর যৌক্তিকতা পর্যালোচনার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিভাগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা ও দেশে থাকা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান বিবেচনার কথা বলেন।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের যুগে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে ইভি-সংশ্লিষ্ট কোর্স চালু করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্সের মতো আধুনিক বিষয়ও যুক্ত করা প্রয়োজন। ইউজিসিতে দুই বছর ধরে এআই কোর্স চালুর আবেদন আটকে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। তাই শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, এই বিনিয়োগের যথাযথ ফল নিশ্চিত করাও জরুরি। শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে কোথায় অবস্থান করছেন, কোথায় চাকরি করছেন—এসব তথ্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষিত হয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সফল হওয়া শিক্ষার্থীদের অর্জনের স্বীকৃতির অংশ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও পাওয়া উচিত।
কুয়েট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি। এ ছাড়া উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ বক্তব্য দেন।
এর আগে প্রীতি সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে আনন্দ র্যালি, স্টল পরিদর্শন, কুয়েটের অর্জন, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উপস্থাপনা, আলোচনা সভা এবং প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশনসহ বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।


















