সোমবার , ৩১ আগস্ট ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

গুমের ঘটনায় জড়িত যত ক্ষমতাবানই হোক, বিচার হবে: রাষ্ট্রপতি

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যতই প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবান হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকতে দেওয়া হবে না।

শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনো মা যেন সন্তান হারিয়ে, কোনো স্ত্রী যেন স্বামীর অপেক্ষায় আর চোখের পানি না ফেলেন—এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। গুমের প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে ভিন্নমত দমন এবং রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রুখে দিতে গুম, খুন ও গোপন বন্দিশালার মতো ভয়াবহ কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। অন্যায়ের প্রতিবাদকারী, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—অনেকেই এসব ঘটনার শিকার হয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। এখন প্রতিশোধের পরিবর্তে ন্যায়বিচার ও প্রতিকারের পথে এগিয়ে যেতে হবে। গুম-খুনের মতো অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর তিনি জোর দেন।

গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ভবিষ্যতে যেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে কোনো নাগরিককে গুম বা গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার মতো ঘটনা না ঘটে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান এবং গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ

বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া এম ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন আহমদ, ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমান আযমীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, গুম-খুন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন, একদিন বাংলাদেশের মাটিতেই এসব অপরাধের বিচার হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে নাগরিকরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবেন এবং রাজনৈতিক বা ভিন্নমতের কারণে কেউ রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হবেন না। গুমের মতো অপরাধ বন্ধে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

সর্বশেষ - অপরাধ