লিবিয়ার পূর্ব উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী একটি কাঠের নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫০ জন অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই, ২০২৬) ভোরের দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। লিবিয়ার দুটি নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। উদ্ধার হওয়া ১০ জন অভিবাসীকে মিসর সীমান্তের কাছাকাছি তবরুক শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এল-বারদা দ্বীপের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ওই নৌকাটিতে প্রায় ৬০ জন অভিবাসী ছিলেন, যারা মূলত সাব-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। নিখোঁজদের সন্ধানে লিবিয়ার কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমুদ্রের ওই এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগের দিন সোমবারও একই এলাকায় আরেকটি বড় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবরুক উপকূল থেকে চারজন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি লিবিয়ার জলসীমায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ভাসতে থাকা একটি ভাঙাচোরা নৌকা থেকে আরও ২৪ জন অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ২৮ জন আরোহী নিয়ে ভাসতে থাকা ওই নৌকার যাত্রীরা দীর্ঘ সময় খাবার, পানি ও চিকিৎসার অভাবে চরম মানবিক সংকটে পড়েছিলেন এবং চারজন ধুঁকে ধুঁকে মারা যান। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়ায় চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংকটের সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলো দেশটিকে ইউরোপমুখী অভিবাসীদের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে প্রতিবছর সাব-সাহারা অঞ্চলের হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ সমুদ্রপথে ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারাচ্ছেন, যার ধারাবাহিকতায় গত জুন মাসেও তবরুক শহরের কাছে নৌকাডুবিতে ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।



















