সোমবার , ১৮ মে ২০২৬ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

কঙ্গো-উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা, জরুরি অবস্থা ঘোষণা ডব্লিউএইচওর

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
মে ১৮, ২০২৬ ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) এবং প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় মহামারি ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। রোববার (১৭ মে) এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, এই প্রাদুর্ভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ইতিমধ্যে অন্তত ৮০ জনের সন্দেহভাজন মৃত্যু এবং ২৪৬ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা জানিয়েছেন, ল্যাব টেস্টের ফলাফলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এবার ইবোলার অত্যন্ত দুর্লভ ও বিপজ্জনক ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) ভ্যারিয়েন্টটি ছড়িয়ে পড়েছে। এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনের কোনো প্রতিষেধক টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই এবং এর মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

সীমান্ত পেরিয়ে রাজধানীগুলোতে ভাইরাসের হানা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মৃত্যুর হার যেভাবে বাড়ছে তাতে বর্তমানে যা শনাক্ত হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বড় আকারে এই প্রাদুর্ভাব লুকিয়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় কঙ্গো থেকে ভ্রমণকারী দুজনের শরীরে ল্যাব-পরীক্ষিত ইবোলা শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। এ ছাড়া কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাতেও ইতুরি প্রদেশ থেকে ফেরত আসা এক ব্যক্তির শরীরে ল্যাব-পরীক্ষায় ইবোলার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাদুর্ভাবের প্রথম সম্ভাব্য বা ইনডেক্স কেসটি ছিল একজন নার্স, যিনি গত ২৪ এপ্রিল ইতুরির বুনিয়া হাসপাতালে ইবোলার উপসর্গ নিয়ে মারা যান। ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা ভাইরাসের আবির্ভাবের পর কঙ্গোতে এটি ১৭তম প্রাদুর্ভাব। কঙ্গোর গহিন ক্রান্তীয় বনাঞ্চলকে এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক উৎস বা রিজার্ভার হিসেবে গণ্য করা হয়, যা মূলত বমি, রক্ত বা বীর্যের মতো শারীরিক তরলের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুত সংক্রমিত হয়।

খনি অঞ্চল ও জঙ্গি হামলার কারণে বিঘ্নিত উদ্ধারকাজ: আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি)-এর মহাপরিচালক জিন কাসেয়া এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে জানান, প্রথম সংক্রমণটি ঘটেছিল মংবওয়ালু স্বাস্থ্য জোনে, যা একটি ঘনবসতিপূর্ণ এবং অতি ব্যস্ত খনি এলাকা। সেখান থেকে রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বুনিয়া ও রুয়াম্পারা এলাকায় যাতায়াত করায় রোগটি দ্রুত তিনটি স্বাস্থ্য জোনে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ইতুরি প্রদেশে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সমর্থিত জঙ্গিদের অনবরত সশস্ত্র হামলার কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতার ফলে সেখানে ভাইরাসের ওপর নজরদারি এবং জরুরি উদ্ধার অভিযান চালানো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়ুসাস আঞ্চলিক সাড়াদান সমন্বয়ের জন্য দ্রুত একটি জরুরি কমিটি আহ্বান করবেন বলে জানানো হয়েছে।

আইসোলেশন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, তবে সীমান্ত বন্ধ নয়: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের জরুরি ঘোষণায় স্পষ্ট করেছে যে এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও দেশগুলোকে দ্রুত সহায়তায় এগিয়ে আসতে বাধ্য করা। ডব্লিউএইচও আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবিলম্বে আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টাইনে রাখা এবং তাদের সংস্পর্শে আসাদের ২১ দিন পর্যন্ত জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরামর্শ দিয়েছে। তবে প্রাদুর্ভাবটি আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ মিললেও এটি এখনো বৈশ্বিক প্যান্ডেমিকের রূপ নেয়নি উল্লেখ করে ডব্লিউএইচও আপাতত আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলো বন্ধ না করার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি রাষ্ট্রসমূহকে সীমান্ত অবরুদ্ধ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া কেবল ভয়ের কারণে সীমান্ত বন্ধ করে দিলে মানুষ ও পণ্য অবৈধ সীমান্ত পথ দিয়ে যাতায়াত শুরু করবে, যা রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

সূত্র: এবিসি

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত