নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালেই ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চীনের তিব্বত অঞ্চলে নিহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। দুই দেশ মিলিয়ে এখনো ২ হাজার ৪৮২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। অন্যদিকে, তিব্বতে পাঁচজনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমালয়ের নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসের পর আকস্মিক পানির স্রোত নেমে আসে। এতে নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র গিরংও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
বন্যার পানির সঙ্গে পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষ জমে একটি নতুন হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকে পানি উপচে পড়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেয়। এতে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে এলে আবারও উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা এবং নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কার কারণে উদ্ধারকারীদের ব্যাপক প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, ভয়াবহ এই দুর্যোগে দুই দেশের ৯০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা জানিয়েছে। দুর্গত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি ও এনডিটিভি।


















