শুক্রবার , ২৩ মে ২০২৫ | ৩রা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে হাজারো শ্রমিকের দুর্ভোগ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
মে ২৩, ২০২৫ ৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

বৈধ পথে মালয়েশিয়া গমনের সুযোগ না পেয়ে হাজার হাজার শ্রমিক প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে সেখানে পাড়ি জমাচ্ছেন, যার ফলস্বরূপ তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। সম্প্রতি কুয়ালালামপুর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ৪০ জন যাত্রীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যারা ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে শ্রমিক হিসেবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তারা ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ করে গিয়েছিলেন। এদের মতো আরও প্রায় ১ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে আটকা পড়ে আছেন, এবং আরও কয়েক হাজার অবৈধ শ্রমিক অভিবাসী ক্যাম্পে বন্দি। কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা শ্রমিক আটকের বিষয়টি স্বীকার করলেও তাদের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেননি।

ফেরত আসা শ্রমিকদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জের হেলেনা বেগম জানান, সুদে সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে গত ১৬ মে মালয়েশিয়া যান। তাকে ২২ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়েছিল, এবং চুক্তি ছিল দালালরা তাকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যাবে। কিন্তু মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন পুলিশের সন্দেহ হলে তাদের আটক করা হয় এবং তিন দিন পর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। হেলেনা বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন, তাই দালালের প্রলোভনে পড়ে তিনি এই পথ বেছে নেন। তার ধারণা, বিমানবন্দরে আটক থাকা প্রায় ১ হাজার লোকের অধিকাংশই বাংলাদেশি।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একই ফ্লাইটে ফিরে আসা শরীয়তপুরের ইলিয়াস হোসেন বলেন, গত ১৬ মে সকালে তিনি কুয়ালালামপুরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে দালালকে ১ লাখ টাকা দেওয়ার পর দালাল তাকে দুদিন ধরে ঘুরিয়েছে, কোনো খাবার বা পানির ব্যবস্থা করেনি। ১৮ মে তাদের ইমিগ্রেশনে গিয়ে ধরা দিতে বলা হয়। ইমিগ্রেশন তাদের আটক করে একদিন জেলে রাখে এবং ১২০ রিঙ্গিত জরিমানা করে ফেরত পাঠায়। ইলিয়াসও দাবি করেন, তার মতো প্রায় ১ হাজারের বেশি মানুষ বিমানবন্দরে আটকা পড়ে আছেন। যশোরের রবিউল হোসেনও একই তথ্য দিয়েছেন।

দালাল শাহ আলম জানান, তিনি বারিধারার হিউম্যান রিসোর্স লিমিটেডের হয়ে কাজ করেন। মালয়েশিয়ায় আফিয়া ওভারসিজের আলতাব খানের লোকজন শ্রমিকদের রিসিভ করার কথা ছিল। ইলিয়াস হোসেন আরও বলেন, মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন অফিসের কারাগারে বাংলাদেশের ১ হাজারের বেশি শ্রমিক বন্দি। যাদের ফিরতি টিকিট আছে, তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে, আর যাদের টিকিট বা জরিমানার টাকা নেই, তাদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।

গত সোমবার মালয়েশিয়ার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থার (একেপিএস) বিবৃতিতে জানানো হয়, বিমানবন্দরে অবতরণের ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পরও ইমিগ্রেশন কাউন্টারে উপস্থিত না হওয়ায় ১১২ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একেপিএসের নিয়মিত নজরদারি অভিযানে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০ ব্যক্তিকে পরীক্ষা করে তাদের শনাক্ত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন, যারা পর্যটক হিসেবে দাবি করলেও ইমিগ্রেশন কাউন্টারের দিকে না গিয়ে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছিলেন এবং বিশেষ কারও জন্য অপেক্ষা করছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়।

মালয়েশিয়ান দূতাবাসের কাউন্সিলর (রাজনৈতিক) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, এক শ্রেণির ট্রাভেল এজেন্সির মালিক শ্রমিকদের প্রলোভন দেখিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসায় অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করে। এই শ্রমিকরা প্রায়শই ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হয়ে অভিবাসী ক্যাম্পে অমানবিক জীবনযাপন করেন।

জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বায়রার বহিষ্কৃত নেতা ফকরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বা ট্যুরিস্ট ভিসায় শ্রমিক পাঠানোর কারবারে জড়িত। তিনি চান না মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে শ্রমিক যাক। যখনই সরকার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগ নেয়, তখনই তিনি বৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেন। তার পাঠানো শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় রিসিভ করেন আফিয়া ওভারসিজের আলতাব খান, যিনি ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে শ্রমিকদের বের করে নেন। এই অবৈধ শ্রমিকরা প্রায়শই কাজ না পেয়ে পালিয়ে বেড়ান এবং ধরা পড়লে তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

বায়রার এক নেতা জানান, যখনই সরকার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগ নেয়, তখনই বায়রার একটি বিপথগামী গ্রুপ এতে বাধা দেয়। এই গ্রুপটি অবৈধভাবে শ্রমিক পাঠানোর চক্রে জড়িত এবং চায় না বৈধভাবে শ্রমিক যাক, কারণ এতে তাদের অবৈধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা আরও জানান, অবৈধভাবে শ্রমিক মালয়েশিয়ায় গেলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং মালয়েশিয়াও আন্তর্জাতিকভাবে ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, শ্রমিকরা যেকোনো উপায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ চান। বৈধভাবে যেতে না পারলে তারা অবৈধভাবে যেতে চান, তাই বৈধভাবে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা জরুরি। অবৈধভাবে যারা ট্যুরিস্ট ভিসায় শ্রমিক পাঠায়, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সর্বশেষ - অপরাধ