মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ গত ৪ আগস্ট ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রেগান ন্যাশনাল বিমানবন্দরের কাছে একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে মাঝ-আকাশে সংঘর্ষের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছিল। এখন প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হোয়াইট হাউসের নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট রেডিও যোগাযোগের সমস্যাই এ ঘটনার অন্যতম কারণ।
ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)–এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে চলমান নির্মাণকাজের কারণে মেরিন ওয়ানের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছিল। এর ফলে হেলিকপ্টারটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেডিও যোগাযোগে মাঝেমধ্যে সমস্যা হচ্ছিল।
নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, মেরিন ওয়ান উড্ডয়নের আগে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের তিন মিনিটের একটি পূর্ব-সতর্কবার্তা কল পাওয়ার কথা। কিন্তু রেডিও সমস্যার কারণে ওই সতর্কবার্তা কন্ট্রোলারদের কাছে পৌঁছায়নি।
ফলে মেরিন ওয়ান আকাশে ওঠার ঠিক সময়েই একটি যাত্রীবাহী বিমানকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়। এতে দুটি উড়োজাহাজ অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার আগের সপ্তাহেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার ও মেরিন ওয়ানের পাইলটরা এ বিষয়ে বৈঠক করেছিলেন। ভবিষ্যতে সতর্কবার্তার রেডিও কল সরাসরি পৌঁছাতে সমস্যা হলে অন্য কারও মাধ্যমে সেই বার্তা স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। কিন্তু ৪ আগস্টের ঘটনায় সেই ব্যবস্থাও কার্যকর হয়নি।
ঘটনার পর প্রযুক্তিবিদরা সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করেন। হোয়াইট হাউসের নির্মাণকাজের কারণে মেরিন ওয়ানের অবস্থান পরিবর্তনের পর যোগাযোগব্যবস্থায় এই ত্রুটি তৈরি হয়েছিল। এরপর ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) রেডিও রিসিভারটি বিমানবন্দরের কাছের একটি স্থান থেকে সরিয়ে রেগান বিমানবন্দরের টাওয়ারের চূড়ায় স্থাপন করে।
পরবর্তী পরীক্ষায় দেখা গেছে, নতুন অবস্থানে স্থাপনের পর রেডিও যোগাযোগ অনেক বেশি নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করছে।
এভিয়েশন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ গুজেটি বলেন, আগের যোগাযোগ সমস্যাগুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা অবগত থাকলেও সমস্যার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে পারেননি।
এফএএ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর ও মেরিন ওয়ানের পাইলটদের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে অ্যান্টেনা স্থানান্তরসহ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে যাত্রীবাহী বিমান ও প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার আকাশে ওঠার বিষয়টি গত বছর রেগান বিমানবন্দরের কাছে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ মাঝ-আকাশের সংঘর্ষের পর কার্যকর করা নিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘন করেছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। ওই দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত হয়েছিলেন।


















