চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারা ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিচ্ছে শিক্ষা বোর্ড। হঠাৎ ফলাফল বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করা হবে। আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শোকজের জবাব পাওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করে সন্তোষজনক মনে না হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শতভাগ ফেল করা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের চিত্রই প্রায় অভিন্ন—যেখানে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এমনকি শতাধিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ থেকে সাতজন এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নিয়েছিল মাত্র একজন শিক্ষার্থী। লক্ষণীয় যে, এই ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৭২ শতাংশই মাদ্রাসা শিক্ষার অধীন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন দায়িত্বহীনতা ও করুণ ফলাফলের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, পাসের হার শূন্য হওয়ার পেছনে প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি কিংবা অভ্যন্তরীণ সংকট থাকলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে শিক্ষা গবেষকেরা বিগত সরকারের আমলে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেওয়া এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাসঙ্গিকতা ও শিক্ষাদানের ন্যূনতম পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা মনে করছেন, কেবল শোকজেই সীমাবদ্ধ না থেকে এই ব্যর্থতার পেছনের সঠিক কারণ অনুসন্ধান করা এবং শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে অকার্যকর এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল বা একীভূত করার মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।


















