সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় বিচার নিশ্চিত করতে সরকার শুরু থেকেই চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এ বিষয়ে ভারতের কাছে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক অনুরোধও জানানো হয়েছে। তিনি যদি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চান, তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাঁকে স্বাগত জানাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই, ২০২৬) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং তিনি দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে সম্পন্ন করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এখন বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা চাইলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারবেন, যেখানে বিদেশি পর্যবেক্ষক রাখার পাশাপাশি আদালতের ভিডিও ধারণেরও সুযোগ থাকবে।
তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টিকে কোনো ভূরাজনৈতিক ইস্যু বা সরকারের জন্য কোনো চাপ হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ভাষ্যমতে, শেখ হাসিনার এ দেশে আর কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই এবং এমনকি আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল অনেক মানুষও এখন একই মত পোষণ করেন। তাই সরকার বিষয়টিকে কোনো সংকট মনে করে না, বরং তাঁর বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের নীতিগত অবস্থান। অন্যদিকে, গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেটি সরকারের কোনো নির্বাহী বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নয় বরং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আইনি নির্দেশনা বলে তিনি পরিষ্কার করেন। নির্বাহী বিভাগ হিসেবে আদালতের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, কেউ যদি মনে করেন এই সিদ্ধান্তে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তবে আদালতে সেটি চ্যালেঞ্জ করার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। পরিশেষে দেশের বিচার বিভাগের সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বিচারক ও আদালতের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং উচ্চ আদালতের কার্যক্রম ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়া সত্ত্বেও সরকার এই সমস্যাগুলো দূর করতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।


















