বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কৌশলগত ও বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আজ রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) বিশ্বজুড়ে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি ছড়িয়ে পড়েছে। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ওই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিমূলক সামরিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বাণিজ্যিক বা বিদেশি জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
আইআরজিসি-র অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি শক্তির যেকোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ বা তাদের ভাষায় ‘অননুমোদিত ও অবৈধ নৌপথ’ ব্যবহার করে পারাপারের যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা ইরানি নৌবাহিনী অত্যন্ত কঠোর হাতে প্রতিহত করবে।
সতর্কতামূলক গুলি ও জাহাজ জব্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা
ইরানি সামরিক কমান্ডের দাবি, গত শনিবার রাতে বেশ কয়েকটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আইআরজিসি-র নির্ধারিত নিরাপদ নৌ করিডোর দিয়ে ফিরে যাওয়ার বারবার নির্দেশ অমান্য করে। এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট জাহাজ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘন করে নিজের অবস্থান শনাক্তকারী জিপিএস (Tracking System) সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল। পরবর্তীতে ইরানি নৌবাহিনীর স্পিডবোট ও যুদ্ধজাহাজ থেকে ওই লাইনে সতর্কতামূলক প্রজেক্টাইল ও গুলি ছোড়ার পর আইন ভঙ্গকারী জাহাজটিকে মাঝদরিয়ায় থামাতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনার পরপরই সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো প্রণালিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় তেহরান।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা ও নতুন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি
চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন-ইসরায়েল জোটের সাথে ইরানের সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই অস্থিতিশীলতা চলছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
| হরমুজ প্রণালি বন্ধের কৌশলগত দিক | আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ও জ্বালানি প্রভাব (২০২৬) |
| বাণিজ্যিক গুরুত্ব | বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। |
| ইরানের আইনি অবস্থান | তেহরানের দাবি—এই প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের এবং তারা ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর ফি বা শুল্ক আরোপ করবে। |
| যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবস্থান | ওয়াশিংটনের দাবি—হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক রুট এবং এতে অবাধ ও উন্মুক্ত চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। |
আইআরজিসি তাদের বিবৃতির শেষাংশে মার্কিন প্রশাসন ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই অবরুদ্ধকরণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যদি ‘শত্রুপক্ষ’ নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন বা আকাশপথে হামলা চালানোর ধৃষ্টতা দেখায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ও পুরোনো সব সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দিয়ে কঠোর ও নির্মম জবাব দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) পারস্য উপসাগরে তাদের যুদ্ধজাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে।


















