দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে চলা তীব্র জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে আজ থেকে আংশিকভাবে সচল হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ)। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) ও পেট্রোবাংলা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত বুধবার মধ্যরাতের পর থেকে সাময়িকভাবে আংশিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার কারিগরি কুলডাউন প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে আনা হয়েছে। সব কারিগরি কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন হলে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক ও পূর্ণমাত্রায় রূপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আরপিজিসিএল-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ। গভীর সমুদ্রে অপেক্ষমাণ আমদানিকৃত এলএনজিবাহী বিশেষ কার্গো থেকে ক্রমান্বয়ে গ্যাস ইনজেকশন শুরু হলে প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীর ওই টার্মিনালে অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে দৈনিক প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় হঠাৎ করে সারা দেশে নজিরবিহীন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়। শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নার চরম দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে জনজীবন। আরপিজিসিএল চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) জানান, কারিগরি টিমের একটানা প্রচেষ্টায় টার্মিনালের ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বয়লারের একটির ত্রুটি সারিয়ে সরবরাহ চালু করার চেষ্টা চলছে। সম্পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে অপর বয়লারটি সচল করা পর্যন্ত সময় লাগলেও ১০ আগস্টের মধ্যে পুরো পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।


















