ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সুয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি সাধারণ দুর্ঘটনা থেকে সৃষ্ট এক মর্মান্তিক ও রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডিতে বেপরোয়া গতির দূরপাল্লার বাসের চাপায় অন্তত পাঁচজন মানুষ নিহত হয়েছেন। এই বর্বরোচিত দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে পাঁচজন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আজ শনিবার (১১ জুলাই, ২০২৬) সন্ধ্যার দিকে এই ভয়ংকর দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে উদ্ধারকারী দল। এই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা মহাসড়কে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ডিমভর্তি পিকআপ উদ্ধার করতে গিয়ে ‘নড়াইল এক্সপ্রেসের’ তাণ্ডব
ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে সুয়াদী বাসস্ট্যান্ডে ডিমভর্তি একটি পিকআপভ্যান বৃষ্টির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। পিকআপটি উল্টে গেলে মানবিক কারণে স্থানীয় সাধারণ পথচারী ও বাজারের লোকজন সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন। তারা যখন ডিমের ক্যারেট ও পিকআপটি উদ্ধারের কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী বেপরোয়া গতির ‘নড়াইল এক্সপ্রেসের’ একটি যাত্রীবাহী বাস উদ্ধারকারীদের সরাসরি চাপা দিয়ে চলে যায়। বাসের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের নির্মম মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর ঘটনার ভয়াবহতা নিশ্চিত করে জানান, “আমরা খবর পেয়েই দ্রুত স্পটে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে অনেক মানুষকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।” ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, বৃষ্টির মধ্যে মানবিক কারণে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি উদ্ধার করতে গিয়েই এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
মহাসড়ক অবরোধ, ৩০-৪০টি গাড়ি ভাঙচুর ও প্রশাসনের অসহায়ত্ব
এই নৃশংস চাপা দেওয়ার ঘটনার পরপরই স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিক্ষুব্ধ জনতা চরম উত্তেজিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। ঘাতক বাস চালকের শাস্তির দাবিতে তারা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সম্পূর্ণ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উগ্র রূপ নিলে উত্তেজিত জনতা মহাসড়কে থাকা ৩০ থেকে ৪০টি যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন নির্বিচারে ভাঙচুর করে এবং বেশ কয়েকটি গাড়িতে দাউদাউ করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
| দুর্ঘটনার মূল বিবরণ | আইন ও উদ্ধারকারী সংস্থা | বর্তমান মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি (রাত ৯টা, ২০২৬) |
| দুর্ঘটনাকবলিত যান | ডিমভর্তি পিকআপ ও নড়াইল এক্সপ্রেস বাস। | মহাসড়কের দুই পাশে শত শত দূরপাল্লার যানবাহন আটকা। |
| হতাহতের সংখ্যা | ৫ জন নিহত, ৫ জনের বেশি গুরুতর আহত। | উত্তেজিত জনতার তাণ্ডবে ৩০-৪০টি গাড়ি ভাঙচুর। |
| উদ্ধারকারী দল | ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ। | সড়কের ওপর একাধিক গাড়ি পুড়ছে, তীব্র যানজট। |
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) মহাসড়কের ওপর একাধিক যানবাহন দাউদাউ করে আগুনে পুড়তে দেখা গেছে। স্থানীয় জনতার তীব্র ক্ষোভ ও তাণ্ডবের মুখে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উত্তেজিত জনতার সামনে ভিড়তে বা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হননি। মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে মাইলের পর মাইল তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে।



















