মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট এবং অবৈধ মজুত রোধে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। তেলের সরবরাহ চেইন সচল রাখতে এবং পাচার রোধে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ ডিপোগুলোতে বিজিবি মোতায়েনের মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের গৃহীত মূল পদক্ষেপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- প্রতি পাম্পে ট্যাগ অফিসার: ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত তেলের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিতে প্রতিটি পাম্পে একজন করে সরকারি কর্মকর্তা বা ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিপিসি এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ডিসি ও ইউএনওরা এই নিয়োগ সম্পন্ন করবেন। তাদের কাজ হলো তেল অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলা হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে তদারকি করা।
- ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন: অননুমোদিত মজুত ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ৯টি জেলার ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ তেলের ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও কুমিল্লাসহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।
- সীমান্তে কড়া নজরদারি: জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, নৌ-টহল এবং আইসিপি-এলসিপিগুলোতে কঠোর তল্লাশি শুরু করেছে।
- সচেতনতামূলক প্রচার: জ্বালানি মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে যে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। অতিদাহ্য পদার্থ হওয়ায় বাড়িতে তেল মজুত না করতে এবং আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কিনতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
- সরবরাহ সময়সূচিতে পরিবর্তন: বিপিসি’র নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ডিপোগুলো থেকে তেল সরবরাহ কার্যক্রম সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ৩টা পর্যন্ত চলবে।
অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান ও দণ্ড
সারাদেশে তেলের মজুত পরীক্ষা করতে ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট সক্রিয় রয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু অভিযানের চিত্র:
| এলাকা | প্রতিষ্ঠানের নাম | জব্দকৃত তেল | শাস্তিমূলক ব্যবস্থা |
| জামালপুর | মেসার্স জুঁই এন্টারপ্রাইজ | ২৫০০ লিটার পেট্রোল | ৫০,০০০ টাকা জরিমানা |
| ময়মনসিংহ (ফুলপুর) | মেসার্স পপি ট্রেডার্স | ২৪,০০০ লিটার (ডিজেল ও পেট্রোল) | ২,০০০০০ টাকা জরিমানা |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়নি। বর্তমানে ২ লাখ মেট্রিক টন তেলের জাহাজ বন্দরে খালাস হচ্ছে এবং সমপরিমাণ তেল আসার পথে রয়েছে। তাই সরবরাহ সংকটের কোনো কারণ নেই।


















