ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অবশেষে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ, ২০২৬) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়েছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দুই শুটারকে বিদেশি রিভলবার ও তাজা গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল, যা নিয়ে দীর্ঘ তদন্তের পর এই গ্রেফতারি অভিযান চালানো হয়।
র্যাব ও মামলার নথিসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- অভিযান ও উদ্ধার: গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি অত্যাধুনিক বিদেশি রিভলবার ও কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব-৪ এর একটি বিশেষ দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে।
- হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট: ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বরের ‘বি’ ব্লকের একটি দোকানে ঢুকে মুখোশধারী তিন সন্ত্রাসী অত্যন্ত কাছ থেকে গোলাম কিবরিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
- মামলার বিবরণ: কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দীনা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
- পরবর্তী পদক্ষেপ: গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং নেপথ্যের মদদদাতাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে র্যাব। আজ দুপুরে মিরপুরের পাইকপাড়ায় র্যাব-৪ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যার পর মিরপুর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এই দুই শুটার গ্রেফতারের মাধ্যমে মামলার তদন্তে নতুন মোড় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



















