মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ‘শতভাগ নিশ্চিতভাবে’ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন অত্যন্ত ‘শক্তিশালী অবস্থান’ থেকে তেহরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করছে বলেও জানান তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর এক প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর দাবির তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল পরিবহন ও মার্কিন শস্য কেনা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, সমস্ত সংঘাত ও আশঙ্কার পরও বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম কৌশলগত নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গত ২৩ জুন এই নৌপথ দিয়ে রেকর্ড ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে।
একই সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নতুন চুক্তির অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে জানান, ইরানের জন্য অবমুক্ত বা ফ্রিজ থেকে মুক্ত করা কিছু অর্থ ব্যবহার করে দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ গম, সয়াবিন ও ভুট্টা আমদানি করবে। এর মাধ্যমে মার্কিন কৃষকরা সরাসরি লাভবান হবেন।
‘ইরান চুক্তি করতে অত্যন্ত আগ্রহী’
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে পুনরায় দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী পূর্ববর্তী সংঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। এর ফলেই তেহরান ব্যাকফুটে চলে গেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান আমাদের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী। আমার মনে হয়, খুব দ্রুতই আমরা তাদের সঙ্গে একটি বড় ধরনের সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব।’
এদিকে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান মার্কিন চাপের মুখে আরও শক্তিশালী বা দাপুটে হয়ে উঠেছে—সংবাদমাধ্যমের এমন বিশ্লেষণ ও খবরকে তিনি ‘সম্পূর্ণ ভুয়া’ (Fake News) বলে উড়িয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক কৌশলের কারণেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে সম্পূর্ণ সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে।



















