শনিবার , ২৭ জুন ২০২৬ | ১৪ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ‘হাদি হত্যা বিচার চাই’ লেখা চিরকুট

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ২৭, ২০২৬ ১২:১০ অপরাহ্ণ

Spread the love

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো থেকে এবার বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি পাওয়া গেছে অসংখ্য আবেগঘন চিঠি ও চিরকুট। এর মধ্যে একটি চিরকুটে দেশজুড়ে আলোচিত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন এক অজ্ঞাতনামা ভুক্তভোগী। আজ শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় দীর্ঘ ছয় মাস পর মসজিদের রেকর্ডসংখ্যক ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। বাক্সগুলো থেকে একে একে নামানো হয় রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা, যা এর আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। সকাল থেকেই মসজিদের দ্বিতীয় তলার বিশাল হলরুমে শুরু হয় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনার কাজ, যা দেখার জন্য উৎসুক জনতা বাইরে ভিড় জমান।

চিরকুটে হাদি হত্যার বিচার ও ২০৩০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্বপ্ন

টাকা গণনার সময় বাক্সগুলোর ভেতর থেকে টাকা ও স্বর্ণের পাশাপাশি বিভিন্ন ভক্ত ও সাধারণ মানুষের রেখে যাওয়া অসংখ্য চিঠি ও চিরকুট উদ্ধার করা হয়। মানুষ সাধারণত নিজেদের রোগমুক্তি, মনের আশা পূরণ কিংবা পারিবারিক সমস্যার কথা লিখে এখানে দান করে থাকেন। তবে এবার আধ্যাত্মিক চাওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট চিরকুটও নজর কেড়েছে। যার মধ্যে একটি চিরকুটে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ছিল, ‘হাদি হত্যা বিচার চাই।’

এ ছাড়া আরেক ফুটবলপ্রেমী তাঁর চিঠিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল দলকে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ প্রার্থনা করেছেন। চিঠিতে তিনি দেশের ফুটবলের সামগ্রিক উন্নতি, তরুণ খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি সফলতা এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর স্বপ্ন পূরণের জন্য আল্লাহর কাছে আকুল আবেদন জানান।

প্রশাসনের উপস্থিতিতে বাক্স উম্মোচন ও টাকা গণনা

এর আগে সকালে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও নেতৃত্বে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো নিরাপদে খোলা হয়। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসনা খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফসহ বিপুল সংখ্যক মাদ্রাসার ছাত্র ও ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রথম দফার প্রাথমিক গণনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। দুপুরের সাময়িক বিরতির পর বিকেল থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার গণনার বাকি কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, গণনা শেষ হলে এটি পূর্বের সকল আর্থিক রেকর্ড ভেঙে এক নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করবে।

সর্বশেষ - অপরাধ