ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশটির অন্যতম প্রাচীন ও সম্মানিত সংবাদ সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া (ইউএনআই)-এর প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার (২০ মার্চ ২০২৬) রফি মার্গ এলাকায় অবস্থিত এই কার্যালয়টিতে অভিযান চালিয়ে কর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের সাংবাদিক মহল এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল অভিযোগসমূহ:
- আদালতের নির্দেশ: জমি বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি আবেদন দিল্লি হাইকোর্ট খারিজ করে দেওয়ার পর পুলিশ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। তবে সংবাদ সংস্থাটির মালিকপক্ষ ‘দ্য স্টেটসম্যান’-এর দাবি, এটি স্রেফ আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর পরিকল্পিত আঘাত।
- কর্মীদের ওপর চড়াও: ইউএনআই কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা ভেতরে ঢুকে সাংবাদিকদের মারধর করেছেন এবং অনেককে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেননি। এমনকি দায়িত্ব পালনকালে কিছু পুলিশ সদস্য মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
- ভাইরাল ভিডিও: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশের এক নারী সদস্যের ধাক্কায় একজন নারী সাংবাদিক মাটিতে পড়ে যাচ্ছেন। এ সময় পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার দৃশ্যও ফুটে উঠেছে।
- রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: সিপিআই সংসদ সদস্য সন্তোষ কুমার এই অভিযানকে ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চরম অবজ্ঞা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বার্তাকক্ষের ভেতরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ভারতের সংবাদমাধ্যমের ভঙ্গুর দশার এক শীতল স্মারক।
দিল্লি পুলিশের অবস্থান: নয়াদিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) শচীন শর্মা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি পথ অনুসরণ করেই সিলিং কার্যক্রম চালানো হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা মদ্যপ অবস্থায় ডিউটি করার অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এই নজিরবিহীন ঘটনার পর ভারতের বিভিন্ন সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং সুশীল সমাজ তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য হিন্দু, টেলিগ্রাফ



















