মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পক্ষ থেকে সমঝোতা না হওয়ার ঘোষণা আসার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এক বিবৃতিতে আলোচনার ভেতরের বিষয়বস্তু ও ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন যে, দুই পক্ষের মধ্যে নিবিড় আলোচনা ও খসড়া বিনিময় হলেও সাফল্যের চাবিকাঠি এখন ওয়াশিংটনের হাতে।
বিবৃতিতে উঠে আসা আলোচনার মূল ইস্যুগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আলোচনার ৫টি প্রধান স্তম্ভ
ইসমাইল বাগাইয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিরতিহীন আলোচনায় পাঁচটি বিষয় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে:
- হরমুজ প্রণালি: এই কৌশলগত জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- পারমাণবিক ইস্যু: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও এর ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা।
- যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ: সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের যে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি।
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের ওপর দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া।
- যুদ্ধের অবসান: ইরানের বিরুদ্ধে এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান সামরিক সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তি।
২. যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের আহ্বান
মুখপাত্র বাগাই স্পষ্ট করেছেন যে, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আন্তরিকতা’ ও ‘সদিচ্ছা’র ওপর। তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রতিপক্ষ (যুক্তরাষ্ট্র) যদি তাদের ‘অতিরিক্ত ও বেআইনি দাবি’ থেকে সরে না আসে এবং ইরানের বৈধ স্বার্থকে স্বীকৃতি না দেয়, তবে আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়া কঠিন।
৩. পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সন্তোষ
ইরান স্বীকার করেছে যে, পাকিস্তান এই আলোচনার জন্য একটি অসাধারণ পরিবেশ তৈরি করেছে এবং শনিবার সকাল থেকে নিবিড় আলোচনার প্রতিটি ধাপে সক্রিয় মধ্যস্থতা করেছে। অসংখ্য বার্তা ও খসড়া চুক্তির আদান-প্রদান হলেও শেষ মুহূর্তে এসে কিছু মৌলিক জায়গায় দুই পক্ষ একমত হতে পারেনি।
৪. বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক প্রভাব
মার্কিন প্রতিনিধিদল সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তান ছাড়ার ঘোষণা দিলেও ইরানের এই বিবৃতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা এখনো আলোচনার টেবিলে তাদের দাবিগুলো নিয়ে অনড়। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজার স্বাভাবিক করতে ‘হরমুজ প্রণালি’ এবং ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার’ ইস্যু দুটি বর্তমানে সবচেয়ে জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এই আলোচনাকে ‘ব্যর্থ’ বললেও ইরান সম্ভবত একে একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে, যেখানে শর্ত পূরণ না হলে তারা কোনো চুক্তিতে সই করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা



















