চীনের দালিয়ানে (তালিয়ান) অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এর মূল প্ল্যানারি সেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) সকালে দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিস্তৃত পরিসরে উদ্ভাবন’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ সেশনটি শুরু হয়। সেশনের শুরুতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস সিঙ্গি উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিদেশে কোনো আন্তর্জাতিক উচ্চপর্যায়ের ফোরামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম অংশগ্রহণ।
বিশ্বনেতাদের সাথে একমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই ‘সামার দাভোস’ বা গ্রীষ্মকালীন দাভোসের মূল পর্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চের একঝাঁক শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে যোগ দেন। এই সেশনে তাঁর সাথে একমঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্বাগতিক চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং (কিয়াং), দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকটেনভ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসোরিন উচরাল, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ এবং গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্ল্যানারি সেশনের সাইডলাইনে (ফাঁকে) বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সরকারপ্রধানদের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন তারেক রহমান।
জলবায়ু তহবিলের অর্থ দ্রুত ছাড়ের আহ্বান ও বেইজিং যাত্রা
এর আগে মালয়েশিয়া সফর শেষে গত সোমবার চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকালে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডব্লিউইএফ-এর প্রেসিডেন্ট আলোইস সিঙ্গি, যেখানে বাংলাদেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো নানাবিধ অর্থনৈতিক ইস্যু গুরুত্ব পায়। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোরামের ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক বিশেষ সেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল দ্রুত ছাড় করার জন্য জোরালো আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, ‘জলবায়ু কার্যক্রম কোনো সাধারণ ব্যয় নয়; এটি আমাদের সামগ্রিক সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য বিনিয়োগ।’
মঙ্গলবার রাতে সামার দাভোসে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের দেওয়া বিশেষ নৈশভোজেও অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আজ বুধবার সকালে প্ল্যানারি সেশনের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর, স্থানীয় সময় দুপুর ২:০০ টায় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গীরা হাই স্পিড (বুলেট) ট্রেনে চড়ে রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে দালিয়ান ত্যাগ করেছেন। বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর তিনি চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় বৈঠকে অংশ নেবেন।


















