বুধবার , ২৪ জুন ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ২৪, ২০২৬ ৪:২৪ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

দীর্ঘ ১৪ মাস পর আগামী ২৮ জুন (রবিবার) দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধ, শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে সুরক্ষা ও পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন সেদিন সকাল ৮:০০ টা থেকে বিকেল ৪:০০ টা পর্যন্ত একটানা চলবে। দেশে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের তীব্র সংকটের কারণে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে এই কার্যক্রম বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হতে যাওয়া এবারের ক্যাম্পেইনে দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।

বয়সভেদে ক্যাপসুলের রঙ ও শিশুর লক্ষ্যমাত্রা

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের বয়সসীমা অনুযায়ী দুই রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে:

  • ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু: এই বয়সী মোট ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
  • ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু: এই বয়সী মোট ২ কোটি ৫ লাখ tracking ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে লাল রঙের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ক্যাম্পেইনের মূল দিন ছাড়াও দেশের ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯0টি ইউনিয়নের ৭১৪টি দুর্গম ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চারদিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ (বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়া) কার্যক্রম চালানো হবে, যাতে কোনো শিশু এই সেবা থেকে বাদ না পড়ে।

কেন্দ্র প্রস্তুত ও তদারকি ব্যবস্থা

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানিয়েছেন, ক্যাম্পেইন সফলভাবে সম্পন্ন করতে দেশব্যাপী মোট ১ লাখ ২০ হাজারটি নিয়মিত ইপিআই (EPI) কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট ও ফেরীঘাটের মতো জনাকীর্ণ স্থানগুলোতে যাতায়াতকারী শিশুদের জন্য আরও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা নিজস্ব টিমের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সার্বিক মনিটরিং করবেন। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও তদারকির জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক পটভূমি

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করে, অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব বা রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে এবং শিশুর সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে আনে। বাংলাদেশে শিশুদের এই পুষ্টিহীনতা দূর করতে ১৯৭৩ সালে প্রথম ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে এই কর্মসূচি শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে এটি জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে ২০০৩ সাল থেকে ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’ নামে পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০১১ সালে একে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে সকল অভিভাবকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

সর্বশেষ - অপরাধ