বাধ্যতামূলক শ্রম নিষিদ্ধের আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না করার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ‘ফেডারেল রেজিস্টার’-এ প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই, ২০২৬) থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯.৪ শতাংশ পণ্যকে প্রভাবিত করবে। দেশভেদে শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ইতিপূর্বে জাতীয় জরুরি আইনের আওতায় ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্ক বাতিল করায় ১৫০ দিনের যে অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘৩০১ ধারা’ ব্যবহার করে এই নতুন শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে।
আমদানিকৃত পণ্যে শুল্কায়নের সার্বিক চিত্র এবং বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:
- দেশভিত্তিক শুল্কের হার: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া ও মেক্সিকোর পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ওপর ১০ বা সাড়ে ১২ শতাংশ এবং চীনসহ বাকি ৩৮টি দেশকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে।
- শুল্কমুক্ত যেসব পণ্য: জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যদ্রব্যকে এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো পণ্য এবং ইউএসএমসিএ (USMCA) চুক্তির শর্ত পূরণকারী পণ্যগুলোও শুল্কমুক্ত থাকবে।
- যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি: মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) জেমিসন গ্রির জানান, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) থেকে বাধ্যতামূলক শ্রম নির্মূল এবং মানবাধিকার ও বৈশ্বিক শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতেই তাদের এ উদ্যোগ।
- আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল এই পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এটিকে সম্পূর্ণ অন্যায্য দাবি করেছে। তবে কানাডা কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়ে আলোচনার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষক ও গভর্নরেরা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে মার্কিন বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আদালতে চ্যালেঞ্জ এড়াতে আইনি কৌশল হিসেবে ৩০১ ধারা ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যে ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে দূরগামী পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের রয়েছে, বাংলাদেশসহ প্রধান মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর হঠাৎ এই শুল্ক আরোপ মূলত তারই একটি অংশ।



















