আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল. তিনি মন্তব্য করেন, “আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পেছনে। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি”. শনিবার (১৩ জুন) নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন.
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও আদ্-দ্বীন প্রসঙ্গ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের প্রেক্ষাপট বিশদভাবে তুলে ধরেন:
- দুর্নীতিতে শূন্য সহনশীলতা: বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আপস করবে না বলে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন. বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন.
- লোভ ও প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন: আদ্-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পেছনে, আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় কোনো লোভ হয় নাই. প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আপনি যা করবেন আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে. আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি”.
- রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: লাইসেন্স বাতিলের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা আজ আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পক্ষে কথা বলছেন বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী.
স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন ও নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেওয়া বেশ কিছু যুগান্তকারী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন:
- চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগ: চীনের বিশেষ সহযোগিতায় দেশে মোট তিন হাজার শয্যাবিশিষ্ট দুটি সর্বাধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে. এই হাসপাতাল দুটিতে মূলত দেশের নারী ও শিশুদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে.
- হোম-বেসড প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা: পরীক্ষামূলকভাবে দেশে সম্পূর্ণ নতুন একটি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার. এই কার্যক্রমের আওতায় সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি সাধারণ মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন. মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যদি সত্যিই প্রয়োজন মনে হয়, তবেই কেবল রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেবেন তাঁরা.
অনুদান ও চারা রোপণ কর্মসূচি
মনোহরদী উপজেলা পরিষদের এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন. প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল নিজ হাতে এলাকার দুই শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তার অনুদান বিতরণ করেন. এর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন এবং স্থানীয়দের মাঝে চারা বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন.


















