বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংকে কোনো ধরনের অবৈধ কিংবা অযাচিত হস্তক্ষেপ হয়নি বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো অপ্রয়োজনীয় বা অযাচিত হস্তক্ষেপ করেনি। শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। গভর্নর জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকটির ওপর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের ঋণ অনুমোদন, নতুন কর্মী নিয়োগ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো রকম নির্দেশনা বা প্রভাব বিস্তার করেনি।
পর্ষদ গঠন ও নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রেক্ষাপট
ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন এবং জরুরি ভিত্তিতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে গভর্নর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন:
- পর্ষদ সদস্য পরিবর্তন: অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে মূলত পাঁচজন সদস্য কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে একজন সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ তাঁকে পর্ষদ থেকে পরিবর্তন করা হয়।
- চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও নতুন নিয়োগ: পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করার পর, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল ও গতিশীল রাখতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
- সিস্টেমিক ব্যাংকের গুরুত্ব: গভর্নর জানান, এটি দেশের একটি অন্যতম বৃহৎ ‘সিস্টেমিক ব্যাংক’ হওয়ায় ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এর ন্যূনতম পরিচালনা কাঠামো যেকোনো মূল্যে বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল。
আমানতের সুরক্ষা ও এডিআর (ADR) পরিস্থিতির বিবরণ
ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহক ও আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সুরক্ষার বার্তা দেওয়া হয়েছে:
- আমানতকারীদের নিরাপত্তা: ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকে রাখা গ্রাহকদের আমানত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। গ্রাহকেরা তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
- অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (ADR): পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ব্যাংকটির অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ। পরবর্তীতে চলতি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে তা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৯৮ শতাংশে পৌঁছায়। এডিআর (ADR) নির্ধারিত স্বাভাবিক সীমার চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও সার্বিক পরিস্থিতি পুরোপুরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেন।



















